মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

রাজশাহীতে ফুলের ব্যবসায় ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে ফুলের ব্যবসায় ধস

রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে ধস নেমেছে ফুলের ব্যবসায়। এছাড়াও গেল দুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।


প্রতিবছর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত বরণে প্রতিটি দোকানদার ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এবার তা নেমে এসেছে ১ হাজার টাকায়।   অনেক দোকানী সারা দিনেও ব্যবসায়ীরা ৫০০ টাকারও ফুল বিক্রি করতে পারেননি। 


শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, লক্ষীপুর ও রেলগেটে গিয়ে দেখা যায়, থরে থরে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। বিক্রেতারা কয়েক মিনিট পরপর ফুলগুলোয় পানি ছিটাচ্ছেন। কিন্তু দোকানে কাক্সিক্ষত ক্রেতার দেখা মিলছে না। মলিন মুখে ব্যবসায়ীদের দেখা গেছে।  


সাহেববাজার দোকানদার মাইনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবারের মতো এসময় ফুল দিয়ে দম ফেলার সুযোগ থাকত না। কিন্তু এবার স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বিক্রি কম। তারপর গেল জাতীয় নির্বাচন। এই আগের নির্বাচনগুলোতে ফুল বিক্রি হলেও এবার খুব একটা হচ্ছে না। তাই বিক্রি নেই, ব্যবসা ভালো হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক ফুল কম দামে ছাড়তে হচ্ছে। 




সাহেববাজারের ফুলের ব্যবসায়ী সপ্তম দাস বলেন, আমাদের ফুলের ব্যবসা করোনার পর থেকে ধস নেমেছে। আগে দোকানে তিনজন কর্মচারী ছিল। সে সময় দৈনিক ৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হতো। এখন সারা দিনেও ১ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয় না। আর ভালোবাসা দিবসেও ২ হাজার টাকারও ফুল বিক্রি হয়নি।  


ফুল ব্যবসায়ী রকি বলেন, মানুষ এখন ইচ্ছে থাকলেও ফুল কেনে না, তা ছাড়া ফুলের দামও বেড়েছে। ফুল কেনার টাকা বাঁচিয়ে মানুষ সংসারের টুকিটাকি কাজে লাগাচ্ছে। আয় নেই, ভালোবেসে এই ব্যবসা ধরে রেখেছি।’


আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যবসায়ী সম্প্রতি ফুলের ব্যবসা ছেড়েছেন। তিনিও সাহেববাজারে ব্যবসা করতেন। করোনা ও ক্রেতা-সংকটের কারণে এই ব্যবসা ছাড়েন। তিনি বলেন, ‘বিক্রি না হওয়ায় বেশির ভাগ সময় ফুল পচে যায়। লোকসান হতে থাকায় আমি ফুলের ব্যবসা ছেড়ে দিই।’


বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনিয়া তার বন্ধু হিমেলকে ফুল কিনে দেন। এ সময় মুনিয়া বলেন, ‘যে ফুল আগে ১০ টাকায় কিনেছি এখন তা ২০ টাকায় কিনলাম। আগে সচরাচর ফুল কেনা হলেও এখন আর হয় না। ভালোবাসা দিবস বলে বন্ধুকে ফুল দিলাম।