‘অজু করে নামাজ পড়তে গেল আর ফিরে আসল না’
রাজশাহীতে দিনমজুরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সন্দেহভাজন তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনজন পলাতক আছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে এ মামলা দায়ের করেন নিহত গোলাম মোস্তফার স্ত্রী নাদেরা বেগম। সন্দেহভাজন অভিযুক্তরা হলেন, হাসিবুল ইসলাম (৪২), সিহাবুল ইসলাম (২২) ও মো. উকিল (৫২)। এরা সবাই গোলাম মোস্তফার প্রতিবেশি ছিলেন।
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে গোলাম মোস্তফাকে (৫০) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে তার পরিবার। এ নিয়ে সন্দেহভাজন তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। সন্দেহভাজনরা পলাতক আছে। তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে নগরীর ডাঁশমারি এলাকার নিহত মোস্তফার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে তার স্ত্রী নাদেরা বেগম বিলাপ করছিলেন। তিনি বলেন, ‘ও আল্লাহ গো, আমার কেনো এই ঘটনা ঘটল। ও আল্লাহ গো, আমি কি নিয়ে থাকব। আমি একলা বাড়িতে কি করে থাকব। আমাকে কেডা দেখবে গো- ও আল্লাহ।’
বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমার স্বামী মোড়ে চা খেতেও যায় না। বাড়িতে আমাকে চা করে দিতে বলে, তারপরে তখন সে খায়। কোনো দল, পার্টিতে থাকে না- যায়ও না। নামাজ পড়ে এসে বাড়িতে ঢোকে আর বাইর হয় না। অজু করে নামাজ পড়তে গেল আর ফিরে আসল না।’
নাদেরা বেগম বলেন, ‘প্রতিবেশী উকিল (নিহতের স্বজনের দাবি) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের গণ্ডগোল (মারামারি) হয়েছিল। এক বছর আগের মারামারি নিয়ে বিরোধ ছিল। তাছাড়া কারও সঙ্গে সমস্যা নেই। তাকে সবাই ভালোবাসে।’
নিহতের পরিবারের দাবি, উকিল নামের এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। উকিল একই এলাকার নহির উদ্দিনের ছেলে। উকিল পেশায় অন্যের জমি কেনাবেচা করেন। তবে উকিলের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে বাড়ির মূল গেটে ছেড়া মশারির দড়ির মতো করে বেঁধে রাখা হয়েছে। প্রতিবেশীরা তার সন্ধান দিতে পারেনি। এছাড়া আশেপাশের মানুষও তেমন কিছু জানাতে পারেনি। তাই অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে উকিলের প্রতিবেশী শাপলা বলেন, ‘রাত থেকে তারা বাড়িতে নেই। বলতে পারব না। কেন তারা বাড়িতে নেই। এছাড়া আমাদের কাউকে কিছু বলেও যায়নি।’
নিহতের ভাতিজি শাকিলা দাবি করে বলেন, ‘একবছর আগে মারামারি হয়েছিল। উকিলরা আমার চাচা ও ভাইদের মেরেছিল। সেই সময় প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন উকিল। সেই ঘটনা জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’ তারাও উকিলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে বিকেলে গোলাম মোস্তফার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। খোঁজাপুর গোরস্থানে জানাজার নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে।
এর আগে শনিবার রাতে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় খোঁজাপুর এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে গোলাম মোস্তফা নিহত হন। ঘটনার পর স্থানীয়রা মোস্তফাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মোস্তফা একটি ময়দার মিলের কর্মচারি ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি তাজা গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। সন্দেহভাজন আসামিদের সঙ্গে ২০২৪ সালে একবার মারামারি হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে মোস্তফাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।