সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

সাত মাস থেকে বেতন পাচ্ছেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৪ অপরাহ্ন
সাত মাস থেকে বেতন পাচ্ছেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা

সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। প্রকল্পটির মেয়াদ গত বছরের জুনে শেষ হলেও রাসিক কর্তৃপক্ষ সেবা অব্যাহত রাখে। ফলে কর্মীরা বেতন বঞ্চিত হতে শুরু করেন। নিয়মিত বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা।


রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এই প্রকল্প পরিচালনা করছে নারীমৈত্রী নামের একটি এনজিও। গেল জুলাই মাস থেকে বেতন বন্ধ আছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। রাজশাহীতে আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ারের ছয়টি শাখা আছে। এই ছয় শাখায় ১৪৪ জন কর্মরত আছেন। 


রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও সহযোগী সংস্থার যৌথ বাস্তবায়নে পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে নগরীর স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। এই প্রকল্পের আওতায় মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান সহায়তা, পরিবার পরিকল্পনা, সাধারণ বহির্বিভাগ চিকিৎসা, গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।


জাকিয়া নাসরিন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে সামান্য বেতন দিয়ে টেনেটুনে সংসার চালাই। প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় সিটি করেেপারেশ বেতন অর্ধেক করে দিয়েছে। তারপর আবার গেল সাত মাস থেকে সেটিও বন্ধ। দোকানদাররা আর বাকিতে জিনিস দিতে চাচ্ছেন না। 


অফিস সহকারি নীল মধাব সাহা বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের গাফিলতির কারণে গত সাত মাস ধরে বেতনভাতা পাচ্ছি না। চরম হতাশার মধ্যে রয়েছি। কারণ চাকরির ওপর নির্ভর করেই সংসার চলে। দ্রুত বেতনভাতা না দিলে পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে।


রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব নয়ন কুমার সাহা জানান, প্রকল্পটির মেয়াদ গত বছরের জুনে শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকায় এবং হঠাৎ করে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ না করতেই অনেক কর্মী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। প্রকল্পটি সিটি করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীদার এনজিওগুলোর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি জটিল হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের আর্থিক দাবির বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় আছে এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।


নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি বলেন, আমরা আমাদের কর্মীদের ৫০ শতাংশ বেতন দিয়ে থাকি। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ সিটি করপোরেশন ও বাকি ২৫ শতাংশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেয়। কর্মীদের বেতন দেওয়ার দায়িত্ব সিটি করপোরেশন। আমাদের আয়ের ৫০ শতাংশ টাকা তাদের কাছে থাকে। তারা কেন দিচ্ছে না সেটা তারা ভালো বলতে পারবে।