তৃতীয়বারের মতো পূর্ণ মন্ত্রী পেল রাজশাহী সদর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে নির্বাচিত হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু। এ নিয়ে রাজশাহী সদর আসন থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রী পেল মহানগরবাসী।
রাজশাহী সদর আসন থেকে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতীয় নেতা এএইচএম কামারুজ্জামান মন্ত্রী ছিলেন। তিনি শিল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন এমরান আলী সরকার। এরপর আর কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পায় রাজশাহী সদর আসন।
এছাড়াও এরশাদের মন্ত্রিসভায় খাদ্যমন্ত্রী, মৎস্য ও পশুপালনমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন রাজশাহী-৩ (বাগমারা-মোহনপুর) থেকে নির্বাচিত সরদার আমজাদ হোসেন। আর রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হক ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন।
এছাড়াও রাজশাহী থেকে ১৯৮৬ সালে সরদার আমজাদ হোসেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা কবির হোসেন রাজশাহী সদর আসন থেকে পেয়েছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী। ওই মেয়াদে রাজশাহী-১ থেকে ব্যারিস্টার আমিনুল হক সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৮-২০১৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সময় রাজশাহী-১ আসন থেকে শিল্প প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ওমর ফারুক চৌধুরী।
রাজশাহী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের শাহরিয়ার আলম ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সবশেষ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আব্দুল ওয়াদুদ দারা। তিনি রাজশাহী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন পর রাজশাহী সদর থেকে মিজানুর রহমান মিনু মন্ত্রী হলেন। বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র হন। টানা ১৭ বছর মেয়র ছিলেন। মেয়র থাকা অবস্থায় ২০০১ সালে তিনি রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্যও হন।
বিএনপির বর্ষীয়ান এ নেতা এবার প্রথম মন্ত্রী হলেন। এতে দলমত-নির্বিশেষে রাজশাহীর সব মানুষ খুশি। তার মন্ত্রিত্বের খবরে শহরের পাড়া-মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে ২৮ হাজার ১৭৬ ভোটে পরাজিত করেন।
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা মিজানুর রহমান মিনু বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্মমহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবশেষ তিনি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-উর-রশিদ বলেন, আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া জানাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। তিনি আমাদের সকলের অভিভাবক মিজানুর রহমান মিনুর উপরে ভরসা রেখেছেন। চেয়ারম্যানের দেওয়া দায়িত্ব তিনি সঠিকভাবে পালন করবেন। এছাড়াও পিছিয়ে পড়া রাজশাহীকে এগিয়ে নেবেন।