সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

রাজশাহী বিভাগ থেকে দুইজন মন্ত্রী, চারজন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ন
রাজশাহী বিভাগ থেকে দুইজন মন্ত্রী, চারজন প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি রাজশাহী বিভাগ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া হওয়ায় এই বিভাগে বিএনপির কর্মী সমর্থকও বেশি। তবে এই বিভাগকে হতাশ করেননি দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিভাগে দিয়েছেন দুই পূর্ণ মন্ত্রী ও চারজন প্রতিমন্ত্রী। 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের মধ্যে ২৮টিতে জিতে বিএনপি। আর জামায়াত জিতে ১১টি আসনে। এর মধ্যে বগুড়া ও নাটোরের সব আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি।


আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে জামায়াত জয়পুরহাটে একটি, নওগাঁতে একটি, রাজশাহীতে দুটি, পাবনাতে তিনটি ও সিরাজগঞ্জে একটি আসনে জয়লাভ করে। বাকি সব আসনে জয় পায় বিএনপি প্রার্থীরা। 


তবে চমক দেখিয়েছি বিএনপি। এবার প্রথম পাঁচজন মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। আর চারজন প্রথমবারের সংসদ সদস্য হয়ে পেলেন মন্ত্রীত্ব। 


সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ) আসন থেকে জয়লাভ করা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এর আগে ২০০১- ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার তিনি এই দপ্তরেই পেলেন পূর্ণ মন্ত্রীত্ব। তিনি ৪০ হাজার ৪৩ ভোটে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জাহিদুল ইসলামকে পরাজিত করেন।


রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে জয়লাভ করা মিজানুর রহমান মিনু পেয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এবারই প্রথম মন্ত্রণালয় পেলেন বিএনপির বর্ষিয়ান এই নেতা। এর আগে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। মেয়র থাকা অবস্থায় সংসদ সদস্য নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।


তিনি এনিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। এছাড়াও মেয়র ছিলেন দুবার। বিএননি এই নেতা জামায়াতের ইসলামের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে ২৮ হাজার ১৭৬ ভোটে পরাজিত করেন। 


মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ভাগ্নে ড. এম এ মুহিত। সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাহাদপুর) থেকে প্রথমবার জয়লাভ করে তিনি পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। তিনি এনসিপির প্রার্থী সাইফ মোস্তাফিজকে পরাজিত করেন। 


ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মন্ত্রীসভায় স্থান পেলেন মীর শাহে আলম। ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মীর শাহে আলম অর্ধ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হন।


তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মীর শাহে আলম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়েছিলেন। জামায়াত প্রার্থী শাহাদাতুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। 


রাজশাহী বিভাগের একমাত্র ও সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপির হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করেছেন পুতুল।


তিনি যৌথভাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪১৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪১৯ ভোট।


দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবন শেষে রাজনীতিতে এসে বাজিমাত করেছেন মুহাম্মদ আবদুল বারী। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর) আসনে ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।


প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে কাজ করা মুহাম্মদ আব্দুল বারী পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।  তিনি এই আসনে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এসএম রাশেদুল আলম পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫১৭ ভোট।


বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. শাহীন শওকত বলেন, রাজশাহী বিভাগ থেকে দায়িত্ব পাওয়া এই ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা অনেক। তারা যেন অবহেলিত রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন করে সে কামনা থাকবে।