মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

রাজশাহীতে বাহারি ইফতার কিনতে রোজদারদের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে বাহারি ইফতার কিনতে রোজদারদের ভিড়

শুরু হয়েছে মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান। আর ইফতারসামগ্রীর জন্য পদ্মাপাড়ের বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সুনাম আছে বেশ। নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে বিক্রি হচ্ছে ইফতারি। এসব দোকানে সাজানো আছে বাহারি ইফতারসামগ্রী- অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম।


তবে, এবার পবিত্র রমজানের প্রথম দিন রাজশাহীতে গেল কয়েক বছরের তুলনায় ইফতারসামগ্রীর দাম অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। বিশেষ করে গেল বছরের চেয়ে এবার ইফতারি কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে অপেক্ষাকৃত কম টাকায় মিলছে ইফতারসামগ্রী। 


ছোলা থেকে পিঁয়াজু প্রতিটি সামগ্রীর দাম বেড়েছে। আবার যে সামগ্রীর দাম বাড়েনি তা আকারে ছোট হয়ে গেছে। রমজানের প্রথম দিন ইফতারির দোকানগুলো ছিল ক্রেতা সমাগমে পূর্ণ। প্রতিটি দোকানে দেখা গেছে রোজদারদের ভিড়। 


বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রয়ারি) রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, ভদ্রা, তালাইমারী, কাজলা, বিনোদপুর, সোনাদীঘির মোড়, হড়গ্রাম বাজার, শালবাগান, লক্ষ্মীপুর, কাদিরগঞ্জ, নিউমার্কেট, উপশহর নিউমার্কেট, নওদাপাড়াসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা পসরা সাজিয়ে বিক্রি করছে ইফতার। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দোকানগুলোতে রকমারি ইফতার তৈরি হয়েছে এবছরও। 


এসব ইফতার বিক্রির দোকানে পাওয়া যাচ্ছেÑঘিয়ে ভাজা বোম্বে জিলাপি, রেশমি জিলাপি, স্পেশাল ফিরনি, ক্ষিরসা, ফালুদা, নবাবী পরোটা, কাশ্মিরি পরোটা, চিকেন মসলা, রেশমি কাবাব, চিকেল গ্রিল, বিভিন্ন ধরনের কাবাব, তেহারি, কাচ্চি বিরিয়ানি, চিকেন ফ্রাই, মাঠা-ঘোল ও নানা রকমের জুস। ইফতারসামগ্রীগুলো এবারও মন কাড়ছে রাজশাহীর মানুষের। প্রথমদিন ইফতারে স্বাদের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য আনতে সাধ ও সাধ্যমতো সবাই প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।


দেখা যায়, একটি রেশমি কাবাব ১৫০ টাকা, বিফ শিক কাবাব ১৪০ টাকা, চিকেন সাসলিক ১০০ টাকা, ব্যাংকক চিকেন ৪০ টাকা, চিকেন জালি কাবাব ৪০ টাকা, মাটন পরোটা ৫০ টাকা, শামী কাবাব (বিফ) ৫০ টাকা, গ্রিল ১৩০ টাকা, এবং একটি চিকেন ফ্রাই বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দিয়ে। গত বছরের তুলনায় সব ধরনের ইফতারসামগ্রীর দাম বেড়েছে।


রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কালোজিরা মিশ্রিত জিলাপির বেশ কদর। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। আব্দুল হাকিম নামে এক ক্রেতা বলেন, জিলাপির মান ঠিকই আছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় দাম বেশি। গত বছর এক কেজি জিলাপি ছিল ৩৫০ টাকা। আর এবার কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০০ টাকা। 


নগরীর কাজলা মোড়ে ইফতারসামগ্রী বিক্রি করছেন জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, অন্যরা ছোট আকারে বেগুনি-পিঁয়াজি বিক্রি করছে। আমি বড় আকারের বেগুনি-পিঁয়াজি করছি। আমার অধিকাংশ ক্রেতা শিক্ষার্থী। একটা কিনলে আরামে খেতে পারে সে চিন্তা থেকে বড় করে বানানো। বেগুনি, পিঁয়াজি ও বিভিন্ন ধরনের চপের প্রতিটির দাম ১০ টাকা করে। এছাড়া ছোলা ২০ টাকায় ১০০ গ্রাম বিক্রি করছি।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাপসী রাবেয় হলের বাসিন্দা আনিকা ইবনাত বলেন, পশ্চিমপাড়াতেও ইফতারসামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো কখন তৈরি সেটা বলছে না। তাই কাজলায় আসলাম। রুমমেটদের সঙ্গে ইফতারি করবো। কিন্তু দাম বেশি বলে মনে হচ্ছে।  


ছোটবনগ্রাম বারোরাস্তা মোড়ে ফুটপাতে ইফতারসামগ্রী বিক্রি করছেন আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, আলুর চপ ও পিঁয়াজি প্রতি পিচ ৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুনির দাম প্রতি ১০ টাকা। বেগুনের দাম বেশি হওয়ার বেগুনির দাম বেশি। এছাড়াও চিকেন সাসলিক প্রতি পিস ৫০ টাকা, চিকেন টিকা প্রতি পিচ ১৫ টাকা এবং বিফ টিকা প্রতি পিচ ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। 


ওষুধ কোম্পানিতে মিজানুর রহমান বলেন, বড় রেস্তোরাঁর চেয়ে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে কম দামে ইফতারি কেনা যাচ্ছে। এসব দোকানে চোখের সামনে বিক্রি করছে সবকিছু। তাই এসব দোকান থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। ছুটির দিন ব্যতিত বাড়িতে ইফতার করা সম্ভব না।  


ভদ্রার অতিথি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আইনুল হক বলেন, প্রতিবছর আমাদের এখানে ইফতারির চাহিদা বেশি থাকে। জিলাপি কেজি প্রতি দাম ২৫০ টাকা আর রেশমি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। বুন্দিয়া ২২০ টাকা কেজি, সিদ্ধ ছোলা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা করে। নিমকি প্রতি কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ২০০ টাকা। আবার পিঁয়াজি, বেগুনি ও আলুর চপ ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন চিকেন আইটেম, বিরিয়ানিসহ বিভিন্ন আইটেম বিক্রি করা হচ্ছে। 


কুমারপাড়া এলাকার গোলাপ মামার হোটেলের কর্নধার গোলাপ সরদার বলেন, ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে দাম বাড়ানো সম্ভব না। গেল বছর যে দাম ছিল এ বছরেও সে দামে ইফতারসামগ্রী বিক্রি করতে হচ্ছে। ইফতারের প্রধান উপাদান, চপ, পিঁয়াজি ও বেগুনি পাঁচ টাকাতেই বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও কেউ রান্না করা ছোলা ১০ টাকা চাইলে সেটাও দেওয়া হচ্ছে। কেউ বসে ইফতার করলে সে ব্যবস্থাও আছে। নিত্যপণ্যর দাম বাড়ানো হচ্ছে সিন্ডিকেট করে। কিন্তু যারা কিনে খাচ্ছে তাদের কথাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।