দুলুকে মন্ত্রী না করায় নাটোরের নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু । তিনি ২০০১ সালের পর এ আসন থেকে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও সবসময়ই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন জোট সরকারের সাবেক এই প্রভাবশালী নেতা ।
গত ২৪ বছর আগে এই নাটোর সদর থেকে এক বার না, তিন বার এমপি নিবার্চিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়,এবারও জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। গত ১৭বছর তিনি একের পর এক জেল জুলুম, হামলা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জেলার সব গুলো আসনে বিএনপিকে বিজয়ী করতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।
তার এ প্রচেষ্ঠা কাজে লেগেই জেলার চারটি আসনেই বিপুল ভোটে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এত কিছুর পরও চারবারের এমপি দুলুকে এবার মন্ত্রী না করায় জেলার বিএনপি নেতাকর্মীসহ তার ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে চাপা কষ্ট বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় এইনেতার মন্ত্রী পরিষদে স্থান না পাওয়া নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
কেউ কেই বলছেন, দলের ভিতরে থাকা বিএনপি নামধারী একটি মহল, রাজনৈতিক ভাবে পরাজিত হয়ে ভুল তথ্য দিয়ে হাই-কমান্ডের কাছে কানভারি করেছেন, আবার কেউ বলছেন তার কাছের কিছু লোকজন জনের কর্মকান্ডের জন্যই তিনি মন্ত্রী পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে যে যাই বলুক, তৃনমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের চাওয়া এবং তাদের প্রাণের দাবী, প্রিয় এই নেতার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হওয়া। তানাহলে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা বাসীর যে স্বপ্ন তা পুরণ হবে না।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০০১-২০০৬সালে তৃতীয় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি বিএনপি সরকারের ভুমি ও স্থানীয় সরকার উপমন্ত্রী হিসেবে পর পর দুটি মন্ত্রণালয়ে সম্মানের সাথে দায়িত্বপালন করেছেন। পরবর্তিতে ফখরুদ্দীন-মঙ্গনুদ্দীন সরকার থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময় তিনি একের পর এক জেল জুলুম, হামলা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে প্রায় দেড়শ মিথ্যা মামলা দিয়ে বার বার তাকে জেলে আটক করেছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় সাড়ে সাত বছর জেল খেটেছেন। তারপরও সকল সময় দলকে গুছিয়ে রাখাসহ সকল আন্দোলন সংগ্রাম সফল করার জন্য তার ভুমিকা ছিলো অপরিসীম। মাঝে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলা থানায় তিনি সংগঠন গোছাতে কাজ করেছেন। বিএনপি নেতাকর্মীসহ নাটোরের সাধারণ মানুষ তাই আশা করেছিল দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিএনপি বিজয়ী হওয়ায় এবার অবশ্যই দুলু পুর্ণ মন্ত্রী হবেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন প্রচারনাও ছিল রীতিমতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মন্ত্রীসভায় অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নাম দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়েছে নাটোরের মানুষ। অনেক নেতাকর্মী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ভোটের পর থেকেই দুলুর ভক্ত ও অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুলু স্বরাষ্ট্র বা এলজিআরডি মন্ত্রী হবেন এমন আশা প্রকাশ করে দোয়া কামনা করছিলেন।
আবু ইউসুফ লাম নামে তার এক অনুসারী ফেসবুকে স্মরণ করিয়ে দেন এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় তারেক রহমান নাটোরে এসে বলেছিলেন তিনি কখনো প্রধানমন্ত্রী হলে দুলু হবেন তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাই তারা আশা করেছিলেন, মন্ত্রণালয় যেটাই হোক দুলু পূর্ণ মন্ত্রী হবেন এটা নিশ্চিত।
নাটোর সদর ২ আসনের স্থানীয় সাধারণ মানুষেরা বলছেন দীর্ঘ ১৭বছর ধরেই নাটোর সদর আসনের মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত বিশেষ করে এই আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গ্যাসের সমস্যা সমাধান, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ, নাটোর-নলডাঙ্গা সড়ক ফোর লেন এবং শহরের যাজট নিরসনে নতুন বাইপাস ফ্লাইওভার ও ওভারপাস নির্মান এবং তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে এবারে সদর আসন থেকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে এবং জেলার সদরের উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে।
এবিষয় দুলুর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেছেন, নাটোরের বিএনপিতে দুলুর অবদান অনেক। গোটা রাজশাহী বিভাগে দলকে গোছাতে ভুমিকা রেখেছেন দুলু। যখন তিনি মন্ত্রী ছিলেন তখনও দক্ষতা ও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ছিলেন। তারপরও তাকে এবার মন্ত্রী না করায় তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার তালিম বলেছেন, দলের দুঃসময়ে ঢাকাসহ ছাড়াও রাজশাহী বিভাগে দুলুর ভুমিকা দলের সকলেই জানেন। দলের এমন সুঃসময়ে তাকে দলের মূল্যায়ন করা উচিৎ। রাজনীতি করতে এসে তার আপন ভাতিজা গামাকে হরাতে হয়েছে। এছারা বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ, জেল ও যুলুমের স্বীকার হয়েছেন তিনি।
তবে এসব বিষয়ে কোন মতামত দিতে চাননি দুলু। অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুলু বলেন, আমার কিছু বলার নেই, দলের চেয়ারম্যান সব জানেন বোঝেন, তিনি যা ভালো মনে করেন সেটাই আমি হাসি মুখে মেনে নিবো।
উল্লেখ্য নাটোর-২ আসনে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর প্রাপ্ত ভোট, ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬ ভোট। অর্থাৎ ৩২ হাজারের বেশী ভোটের ব্যবধানে এবারও দুলু নির্বাচিত ।
এছারা নাটোর জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নাটোর-২(সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালকুদার দুলু, নাটোর-৩(সিংড়া) আসনে বিএনপির অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু ও নাটোর-৪( বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে বিএনপির আব্দুল আজিজ বিজয়ী হয়েছেন।