মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানেগুলোতে ছড়াচ্ছে মুকুলের ঘ্রাণ ভালো ফলনের আশায় চাষিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানেগুলোতে ছড়াচ্ছে মুকুলের ঘ্রাণ ভালো ফলনের আশায় চাষিরা

শীতের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্যতম আমসমৃদ্ধ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ বাগানজুড়ে শুরু হয়েছে আম মৌসুমের আগমনী বার্তা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার আমগাছ মুকুলে মুকুলে ভরে উঠছে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মিষ্টি সুঘ্রাণ। । কৃষক ও বাগান মালিকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ফলন হতে পারে রেকর্ড পরিমাণ।


জেলার সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের সারি সারি গাছে ইতোমধ্যে মুকুলের সমারোহ। প্রায় প্রতিটি ডালপালা নতুন মুকুলে ছেয়ে আছে এবং বাতাসে ভাসছে সেই মিষ্টি সুভাষ। এই সময়টিকে আমের মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ মুকুলের মান ভালো হলে ফলনও ভালো হয়।


জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি আমগাছ রয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন। সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার বাগানগুলোতে মুকুলের উপস্থিতি ইতোমধ্যে চোখে পড়ার মতো হয়ে উঠেছে।


কৃষকরা জানান, মুকুল আসার আগেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যার কাজ শেষ করেছেন। রানীহাটি ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবার আগেভাগেই মুকুল এসেছে এবং কুয়াশা বা রোগবালাই না হলে ফলন ভালো হবে। দুর্লভপুর এলাকার চাষি মনিরুল ইসলাম মানিক জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গাছে মুকুল আসছে এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্প্রে করা হচ্ছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জেলা উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ গাছে ইতোমধ্যে মুকুল এসেছে এবং বাকি গাছেও দ্রুত আসবে। মুকুলকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরাও বেশি ফলনের আশায় সে অনুযায়ী কাজ করছেন।


জেলার বাগানগুলোতে ইতোমধ্যে গুটি, লক্ষণভোগ, আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাত ও আশ্বিনা জাতের গাছে মুকুল দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যায়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলের গুটি ভালোভাবে ধরে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। তাই কুয়াশা, অকাল বৃষ্টি বা রোগবালাই না হলে চলতি মৌসুমটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা আম মৌসুম হতে পারে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।