অব্যবহৃত ছাদে রুফটপ সোলারকে অগ্রাধিকারের দাবিতে রাজশাহীতে মানবন্ধন
বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তরের লক্ষ্যে রুফটপ সোলার (ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ) প্রযুক্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা।
এসময় বক্তব্য দেন নারী নেত্রী ফরিদা বেগম , আবেদা বেগম, পরিবর্তন পরিচালক রাশেদ রিপন, ক্যম্পেইন এসোসিয়েট রনি রায়, সোমা ভৌমিক প্রমুখ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর পঞ্চবটি এলাকায় আয়োজিত এক মানবন্ধনকালে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।
কর্মসূচিটি যৌথভাবে আয়োজন করে পরিবর্তন, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-রাজশাহী, ক্লিন এবং ইডএঊউ-সহ স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মসমূহ। এতে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এর বিপরীতে রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল সমাধান হওয়া সত্ত্বেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
বক্তারা আরও বলেন, রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের জন্য ‘জ্বালানি গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর উপায়। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গ্রামীণ বাজারের অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই একটি শক্তিশালী জ্বালানি রূপান্তর শুরু করা সম্ভব।
তারা উল্লেখ করেন, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত ছাদ রয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা হ্রাস পাবে।
এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় যেমন হবে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি সাশ্রয়ী ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।