টিসিবির পণ্য নিতে লাইনে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা
রমজান মাসে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)। প্রতিদিন রাজশাহী মহানগরীর ১৫টি স্থানে এই পণ্য বিক্রি চলছে। ন্যায্যমূল্যের ট্রাকের সামনে লম্বা হচ্ছে নিম্নবিত্তের লাইন। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এই লাইনে মধ্যম আয়ের মানুষের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
তবে চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে বিক্রি। পণ্য কিনতে আসা অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নগরীর কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা গেছে, টিসিবির ট্রাকের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘলাইন।
স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্যে পেতে বিভিন্ন পয়েন্টে টিসিবির ট্রাকের কাছে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। এখানে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তবে এখানেও আছে ভোগান্তি।
সকাল ১০টার মধ্যে ট্রাক আসার কথা থাকলেও তা ১২টারও পরে আসে। তাছাড়া মানুষের চাহিদার চেয়ে ট্রাকে পণ্যের পরিমাণ কম থাকায় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পণ্য কিনতে পারেন না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
টিসিবি জানিয়েছে, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫৯০ টাকায় পাঁচ ধরনের পণ্যের প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর। প্যাকেজের সব পণ্য একসঙ্গে নিতে হচ্ছে। এবার প্রতি ট্রাক থেকে একসঙ্গে ৪০০ জন সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন। গত বছর শুরুতে ১০টি পয়েন্টে ২০০ জন করে পণ্য বিক্রি করা হয়েছিল।
অভিযোগ আছে, লাইনে দাঁড়িয়ে একাধিকবার পণ্য কিনছেন। এই পণ্য পাওয়া যাচ্ছে খোলাবাজারে। আবার ডিলারের ঘনিষ্ঠ হলেও আগে পণ্য দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে বঞ্চিত থাকছেন নিম্নবিত্তরা। আবার লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হুড়োহুড়ি হচ্ছে। কখনও তা হাতাহাতির পর্যায়েও চলে যাচ্ছে। আবার শেষ পর্যন্ত পণ্য না পেয়ে অনেকেই হতাশ হচ্ছেন। করছেন ক্ষোভ প্রকাশও।
নগরীর দরগাপাড়া এলাকা শাহমখদুম মাজার গেটের সামনে বিক্রি হচ্ছিল টিসিবি পণ্য। আয়েশা বেগম নামের এক নারী বলেন, আজ সকাল ৯টার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখানে নাহলে প্রায় এক হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ট্রাক ১২টার দিকে আসে। এতক্ষণ রোজা থেকে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু পণ্য লাইনে না দাঁড়িয়ে থাকা মানুষও পেয়ে যাচ্ছে। নিজে কখন পাবো ঠিক নাই।
নগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদের কাছে পণ্য নিতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, বাজারে চড়া মূল্যের চেয়ে টিসিবির তেল, চিনি, ডাল ও খেজুর কেনা যায়। তাই তিনি এসব পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সংসারে বাড়তি খরচের চাপ আছে। এখানে কমে পেলে ভালো হয়। পণ্য দিতেও পক্ষপাতিত্ব করছে ডিলারের লোকজন। আবার একজনকে দুইবারও নিতে দেখলাম।
এ বিষয়ে টিসিবির রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, পণ্যের মান ভালো এবং দাম অনেক কম হওয়ায় একটি চক্র একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নিয়ে লাভের জন্য খোলাবাজারে বিক্রি করে। তারাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অন্যদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত পণ্য পান না। আমাদেরও করার কিছু থাকে না।
কারণ প্রতারকদের ঠেকানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় বাড়তি জনবল আমাদের নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশনসহ অন্যদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের সহযোগিতা পেলে বিশৃঙ্খলা কিছুটা কমবে।