আদালতে হট্টগোল: বরিশালে বিএনপিপন্থি ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা
বরিশালে আদালত বর্জন, এজলাসে হট্টগোল এবং বিচারকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ ২০ জন বিএনপিপন্থি আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে।
বুধবার বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা করেন।
মামলার প্রধান আসামি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেছে। মামলায় এজহারনামীয় ১২জনসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও আটজনকে আসাসি করা হয়েছে।”
নামধারী আসামিরা হলেন- বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না,
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন ও বসিরউদ্দিন সবুজ।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি মামলার আসামির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওইদিন আসামিরা বরিশালের মুখ্য ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন।
আসামিরা আদালত প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ত্রাস ও আতঙ্কের সঞ্চার হয়, যা আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, ওইদিন বেলা আড়াইটার দিকে আসামিরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহর এজলাসে অতর্কিত প্রবেশ করেন। তারা সেখানে শুনানিরত আইনজীবীদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং তাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন এজলাসে উপস্থিত সব আইনজীবীকে তাৎক্ষণিক বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
এক পর্যায়ে লিংকন এক আইনজীবীকে গলাধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন। এ সময় আইনজীবী মিজানুর রহমান অত্যন্ত অশোভনভাবে বিচারককে এজলাস থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আসামিরা সেখানে দায়িত্বরত জিআরও শম্ভু কাঞ্চি লাল ও কোর্ট পরিদর্শক তারক বিশ্বাসকেও ধাক্কা দিয়ে এজলাস কক্ষ থেকে বের করে দেন।
উত্তেজিত আইনজীবীরা একপর্যায়ে আদালতের অভ্যন্তরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তারা ডায়াস, মাইক্রোফোনসহ এজলাসের বেঞ্চ ও টেবিল ভেঙে ফেলেন।
এছাড়া আদালতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কজলিস্ট এবং মামলা দায়েরের রেজিস্টার খাতা ছিঁড়ে ফেলে বিচারিক কাজে চরম বিঘ্ন ঘটান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র : বিডিনিউজ