আদালতের স্থগিতাদেশের পরও হয়রানির অভিযোগ, উদ্বেগে সূর্যোদয় নিরাময় কেন্দ্র
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটায় অবস্থিত সূর্যোদয় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল সংক্রান্ত আদেশে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ জারির পরও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মো. ফেরদৌস দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার আচরণে কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
নির্বাহী পরিচালক ফেরদৌস জানান, গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে একটি সংবাদ প্রকাশের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তার নামে ইস্যুকৃত লাইসেন্স বাতিলের আদেশ দেয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আপিল করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত লাইসেন্স বাতিলের আদেশ স্থগিত করে রুল জারি করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফেরদৌসের অভিযোগ, আদালতের স্থগিতাদেশের পরও একাধিকবার সার্চ ওয়ারেন্ট বা লিখিত পরিদর্শন আদেশ ছাড়াই কিছু কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। এতে চিকিৎসাধীন রোগী, কর্মচারী ও রোগীদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, “আমরা আদালতের আদেশ মেনে বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তবুও বারবার তল্লাশি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও দাবি করেন, আপিল ও রিট দায়েরের পর থেকে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি আপিল প্রত্যাহারের জন্যও পরোক্ষ চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
ফেরদৌস বলেন, “আদালতের নির্দেশের পরও যদি হয়রানি চলতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।” তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তার ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. লোকমান হোসেন বলেন, “আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করি। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সূর্যোদয় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহে গিয়েছিলাম। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন ছিল না। সেখানে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।”
উল্লেখ্য, সূর্যোদয় নিরাময় কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।