এবারও আলুর দরে ধস!
রাজশাহীর পবা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আলুচাষি মিঠু হাজীর চোখে এখন শুধুই হতাশা। গত বছর প্রতি কেজি আলুতে ১৫ টাকা লোকসান গুনে তিনি ভেবেছিলেন, এবার হয়তো পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াবে। সেই আশায় চলতি মৌসুমে ১২ বিঘা আট কাঠা জমিতে আলু আবাদ করেন। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখেন, আগের চেয়েও খারাপ অবস্থা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নওহাটা বাজারে আলু নিয়ে গেলে পাইকাররা দাম হাঁকেন মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকা কেজি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মিঠু হাজী বলেন,“এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে আমার প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান দামে বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠবে না; প্রতি কেজিতে ৯ টাকা লোকসান হবে।”
তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে টেন্ডার বাবদ ১৭ হাজার টাকা, বীজ ১২ হাজার, জমি চাষ ৩ হাজার, সার ও কীটনাশক ১২ হাজার, শ্রমিক খরচ ১৩ হাজার, সেচ ও উত্তোলন ৪ হাজার এবং অন্যান্য খরচ ৪ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৬৫ হাজার টাকা। গড়ে প্রতি বিঘায় ৫৫ বস্তা আলু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বস্তায় ৬৫ কেজি হিসেবে মোট উৎপাদন ৩ হাজার ৫৭৫ কেজি। সেই হিসেবে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ১৮ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ টাকায়।
রাজশাহী’র আলুচাষিদের অভিযোগ, শহরের খুচরা বাজারে আলুর দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও পাইকারি পর্যায়ে সিন্ডিকেট আমদানি বৃদ্ধির অজুহাতে দাম কমিয়ে দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বস্তা নিয়ে অপেক্ষা করেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে ফিরতে হচ্ছে।
রাজশাহী জেলার পবা, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাটে ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। মাঠ থেকে পাইকারি বাজার-সবখানেই দরপতনের প্রভাব। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচ যেখানে ১৬ থেকে ১৮ টাকা, সেখানে ৮ থেকে ৯ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া মানে নিশ্চিত লোকসান।
ভোক্তা পর্যায়ে দাম স্থিতিশীল থাকলেও উৎপাদক পর্যায়ে এই ধস চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। মিঠু হাজীর মতো অনেকেই এখন ভাবছেন, পরের মৌসুমে আদৌ আলু চাষ করবেন কি না!