সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আচরণে ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা, নিজ কক্ষে ঘণ্টাব্যাপি অবরুদ্ধ

বাগমারা প্রতিনিধি ০১ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বাগমারা প্রতিনিধি ০১ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন
বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আচরণে ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা, নিজ কক্ষে ঘণ্টাব্যাপি অবরুদ্ধ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। 


অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিউল্লাহ নেওয়াজ যোগদানের পর থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে সহকর্মীরা।


কথায় কথায় হাসপাতালের স্টাফদের শোকজ, অর্থ লোপাট, কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে অশোভনীয় আচরণ, কর্মস্থল ত্যাগ, বাগান করার নামে চাঁদা আদায়, উৎকোচ গ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ- এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধের কারণে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা।


বিনা কারণে তিনি একাধিক নার্স, কর্মরত ডাক্তার, স্যাকমো, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য সহকারী, সিএইচসিপিদের  শোকজ করার হুমকি দেয়। ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্টরা রোববার (১মার্চ) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মেডিকেলে নিজ কক্ষে ১ ঘণ্টা তালা বদ্ধ করে রাখে ওই কর্মকর্তাকে। এ সময় মেডিকেলের ৬/৭ জন ডাক্তার ও কর্মচারী তার কক্ষে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। এতে মেডিকেলের রোগিদের সেবা বন্ধ হয়ে পড়ে। রোগীদের আহাজারি ও স্বজনদের জটলা সৃষ্টি হয়। পরে প্রায় ১ ঘণ্টা পর তালা খোলা হলে ডাক্তাদের কার্যক্রম শুরু হয়।


জানা গেছে, গত  ২৪ সালের ফেব্রুয়রিতে হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ডা. সফিউল্লাহ নেওয়াজ। প্রথম অবস্থায় কাজ-কর্ম ভালো দেখালেও আস্তে আস্তে তার আসল চরিত্র বের হতে থাকে। বিভিন্ন ভাবে কর্মচারীদের কাছে উন্নয়ন কাজ করার নামে চাঁদা আদায়ের বিস্তর অভিযোগ উঠে। এছাড়া নানা রকম হয়রানি কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে।


হাসাপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি একটি বলয় তৈরি করেন। এরপর শুরু হয় নানা অনিয়ম আর দুর্নীতি। বিনা কারণে তিনি একাধিক নার্স, কর্মরত ডাক্তার, স্যাকমো, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য সহকারী, সিএইচসিপি  শোকজ করেছেন। যা অতীতের ঘটনায় এটি প্রথম এবং আশ্চর্যের। এমনকি একজনকে একাধিকবার শোকজের ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসপাতালের পথ্য সরবাহ অনিযম করে টাকার মাধ্যমে বরাদ্দ দিয়েছেন যা থেকে রোগীরা পরিমিত খাদ্য সরবরাহ পায় না।


সম্প্রতি মেডিকেলের সৌন্দর্য বর্ধনে ফুলের গাছ লাগানোর নামে ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে টাকা আদায়াসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের টাকা উত্তোলন নিয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় হাসপাতালে কর্মরত স্টাফদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ফলে দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  ডা. সফিউলল্লাহ নেওয়াজকে কক্ষে আবদ্ধ করে রাখেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।


এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিউলল্লাহ নেওয়াজ বলেন,  আমি রুমে ডাক্তারদের সাথে কথা বলছিলাম, এসময় কে বা কারা তালা লাগিয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করে তারা আমার আসার পর থেকে করছে। আমি অনিয়মের কাজ করি না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগের থেকে আমি আসার পর পরিবেশ ভালো হয়েছে। এবং স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।