কর্মকর্তার গাফিলতিতে বগুড়ার শেরপুরে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীরা দুর্ভোগে
অনেকের কর্মক্ষম ছেলে বা মেয়ে নাই, আবার অনেকের ছেলে-মেয়ে থেকেও তাদের দিকে মুখ ফিরেও তাকায় না, অনেক কষ্ট করে জীবন সংগ্রামের অন্যের মুখাপেক্ষি হয়ে দিনাতিপাত করে থাকে অসংখ্যা বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিধবা ও প্রতিবন্ধিরা। এরা কারো কারো সন্তানদের কাছে বোঝা, আবার সমাজেরও বোঝায় পরিণত হয়েছে।
এসব বয়োবৃদ্ধ, বিধবা ও প্রতিবন্ধিদের মধ্যে অনেকের বেলায় দু’বেলা ভাত ব্যবস্থা থাকলেও অসুখ-বিসুখে এদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়। সরকার সামাজিক নিরাপত্তায় অসহায় দরিদ্র বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পরিচালিত বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীর ভাতার ব্যবস্থা করেছে।
এসব ভাতার সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেও। এ দিয়েই অনেকটা অসুস্থতায় ওষুধ, পথ্য কিনেই সন্তুষ্ট থাকেন। সেই ভাতার অর্থ যদি দীর্ঘদিনেও না জোটে এসব সুবিধাভোগীদের ভাগ্যে তাহলে “কিভাবে মেটাবে তাদের সাময়িক চাহিদা” এসব কথা ভাবতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যাচ্ছে!
ভাতাপ্রাপ্তিতে বিলম্ব নিয়ে বগুড়ার শেরপুরের এক কর্মকর্তার অদক্ষতা, গাফিলতি ও দায়িত্ব অবহেলার অসংখ্যা অভিযোগ উঠেছে। এরফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অনুকুলে হাজারো অসহায়-দরিদ্র বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীরা প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাঈম হোসেন তার দায়িত্বহীনতার কারণে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের দ্বিতীয় কিস্তির পে-রোল যথাসময়ে প্রেরণ না করায় এহেন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় সুবিধাভগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগে জানা যায়, শেরপুর পৌরসভার প্রায় হাজার বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়ে অসুস্থ রোগীরা ওষুধ কিনতে পারছেনা। এছাড়াও বর্তমানে রমজান মাসে টাকা না পেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বলে ভুক্তোভোগীরা জানান।
প্রতিকার পেতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী ভাতাভোগী ইয়ারবক্স শেখ, আমেনা বেগম, বাছেরা বেগম ও মো. হারেজসহ (৬ নং ওয়ার্ড) ৯ জন ভুক্তোভোগী সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক এবং বগুড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনে অবিলম্বে তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আটকে থাকা ভাতার অর্থ দ্রুত ছাড় করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
ভাতা বঞ্চিত ভুক্তভোগাী মো. মকবুল ফকির বলেন, “আমি ছোট দোকান করে জীবিকা চালাই। ভাতার টাকায় আমার অন্যান্য খরচ চলে। এবার টাকা না পাওয়ায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাঈম হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ভাতা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে; তবে পৌরসভার ক্ষেত্রে লাইভ ভেরিফিকেশন সামান্য জটিলতার কারণে পে-রোল পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে খুব শিগগিরই বকেয়া ও চলমান ভাতা একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে বলে তিনি দাবী করেন।
এ বিষয়ে বগুড়া সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহকারী জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”