সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে সব ফলের দাম বেড়ে দ্বিগুন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৩ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৩ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে সব ফলের দাম বেড়ে দ্বিগুন

পবিত্র রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের পাতে ফল থাকা যেমন শরীরের জন্য ভালো তেমনি ইফতারে ফলের স্বাদ নিলে মনও থাকে ভালো। কিন্তু এবারের রমজান মাসে প্রতিটি ফলের দাম এতটাই বেড়েছে যে নিম্ন আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্তের জন্য ফল কিনে ইফতারের পাতে রাখা দুরুহ হয়ে পড়েছে।


মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) পাবনার ঈশ্বরদীর ফল বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি ফলের দাম গত বছরের চেয়ে এমনকি মাস দুয়েক আগের চেয়েও প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে। ফল কিনতে আসা সাধারণ মানুষের বেশিরভাগই ফলের দোকানে এসে দামদর করে এদিক ওদিক তাকিয়ে ফল না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।


দোকানিদের ভাষ্য গত দুই মাসের ব্যবধানে প্রতিটি ফলের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে দোকান ভরা ফল থাকলেও বিক্রি হচ্ছে কম। শহরের শেরশাহ রোডের ফকিরের বটতলার ফল বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে ফলের ব্যবসা করে আসছি, এ বছরের মত এত মন্দ ব্যবসা আগে কখনো হয়নি।


ফল কিনতে আসা আজমল হোসেন প্রামানিক বলেন, দেশি-বিদেশী প্রতিটি ফলের দাম আগের রমজান মাসের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন। এ কারনে ইচ্ছা থাকলেও ফল কিনতে পারছি না। শহরের পশ্চিমটেংরি এলাকার বাসিন্দা রাজিবুল আলম মোহন নামের এক নির্মান শ্রমিক বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছোট ছেলেটা ইফতারের আগে আঙ্গুর কিনে নেওয়ার জন্য বলেছিল কিন্তু ১ কেজি আঙ্গুরের দাম ৪৫০ টাকা শুনে আমিতো হতভম্ব।


বাজার করার পর এখন আঙ্গুর কেনার মত কোন উপায় নেই আমার। আজ  কেনা হলো না, ছেলের আবদার রাখতে আগামীকাল সংসারের অন্য বাজার কমিয়ে আঙ্গুর কিনবো। শহরের রেলওয়ে গেট, বাজার, আলহাজ¦ মোড়, পোষ্ট অফিস মোড়, শেরশাহ রোড, চাঁদআলী মোড়, সাঁড়াগোপালপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ফলের দোকান ঘুরে বিভিন্ন ফলের দাম যাচাই করে দেখা গেছে, গত বছর এমনকি মাস দুয়েক আগেও যে আপেল বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা কেজি, আজ তার দাম প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা।


একই ভাবে ২৫০ টাকার প্রতি কেজি কমলা ৩৫০ টাকা, ৩০০ টাকার বেদানা ৫৫০ টাকা, ১৬০ টাকার মালটা ৩২০ টাকা, ৬০ টাকার আনারস ৯০ টাকা, ৫০ টাকার পেঁপে ১০০ টাকা, ৫০ টাকার তরমুজ ৯০ টাকা, ২৫০ টাকার আঙ্গুর ৪৫০ টাকা। এসব ফলের বাইরে দেশি ফল হিসেবে ১৫ টাকার এক হালি কলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায় এবং ৫০ টাকার এক কেজি পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।


এছাড়া গত বছর যে খেজুর ছিল ৫০০ টাকা কেজি সেই একই খেজুর এবার ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, ফলের আমদানি ভালো হলেও আড়তে ফলের দাম বেশি হওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে ফল বিক্রি করতে পারছিনা।


ফলের দাম সম্পর্কে ঈশ্বরদীর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারি কমিশনরি (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি বাজারে ফল ব্যবসায়ীরা মাত্রাতিরিক্ত দামে ফল বিক্রি করছেন, ভোক্তা অধিকার, পুলিশ, র‌্যাবসহ শিল্প ও বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।


আজ-কালের মধ্যে আবারো অভিযান চালানো হবে। ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নান্নু রহমান বলেন, বাজার মনিটরিং করে ফলের দাম সহনশীর রাখতে আমরাও চেষ্টা করছি।