সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

‘ঠান্ডা-জ¦রে’ আক্রান্ত হয়ে ঈশ্বরদীতে এক সপ্তাহে ৫৫ ছাগলের মৃত্যু

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০৯ মার্চ ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০৯ মার্চ ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন
‘ঠান্ডা-জ¦রে’ আক্রান্ত হয়ে ঈশ্বরদীতে এক সপ্তাহে ৫৫ ছাগলের মৃত্যু

‘ঠান্ডা-জ¦রে’ আক্রান্ত হয়ে পাবনার ঈশ্বরদীর একটি গ্রামে গত এক সপ্তাহে একে একে ৫৫টি ছাগল মারা গেছে। 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া খাঁ পাড়ার দিনমজুর শফিকুল আলমের একটি ছাগল মারা যাওয়ার পর থেকে একে একে তার ৪টি ছাগল মারা যায়। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত ওই গ্রামে শফিকুল ইসলামের ৪টি, হোসেন আলীর ৩টি, সাইদুল ঘোষের ৩টি, জহুরুলের ৪টিসহ দিনমজুর ও কৃষকদের বাড়িতে বাড়িতে মোট ৫৫টি ছাগল মারা গেছে। এ গ্রামে এখনো অনেকের বাড়িতে আরো বেশ কিছু ছাগল অসুস্থ রয়েছে বলে গ্রামবাসী নিশ্চিত করেছেন। গ্রামবাসীরা তাদের ছাগলের এই মৃত্যু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলেও জানান। 


এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, ভেটেরিনারি সার্জন, ও সহকারীদের মাধ্যমে জানা গেছে, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও কমবেশি এভাবে ছাগল মারা যাচ্ছে। তবে মাজদিয়া খাঁ পাড়ায় ছাগলের মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি।


তাদের নিকট থেকে পাওয়া তথ্য ছাড়াও বিভিন্ন গ্রামের ছাগল পালনকারী কৃষকরা জানান, গ্রামে গ্রামে হঠাৎ করে জ¦রে আক্রান্ত হয়ে কাঁপুনি দিয়ে মারা যাচ্ছে ছাগল। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, এসব ছাগলের শরীরে জ¦রের মাত্রাও ১০৫ থেকে ১০৭ ডিগ্রি পর্যন্ত দেখা গেছে।


মাজদিয়া খাঁ পাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে এভাবে আমার ৪টি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে, আরো দুইটা ছাগল এখনো অসুস্থ হয়ে আছে। একে একে ৪টি ছাগলের মৃত্যুতে আমার পরিবারে এখনো শোকের মাতম চলছে। পল্লি পশু চিকিৎসকদের শরণাপণ্ন হয়েও ছাগলের মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না বলে জানান গ্রামবাসী। কৃষক হোসেন আলীর ৩টি ছাগলের ৩টিই মারা গেছে।


এ বিষয়ে তিনি বলেন, ছাগলগুলি আমার পরিবারের সদস্যের মত ছিল। ওদের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারের লোকজনও ব্যথিত হয়েছেন। ছাগলের মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. ফারুক হোসেন ও উপসহকারী মো. ময়রুল ইসলাম সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা মাজদিয়া খাঁ পাড়ায় ১০টি ছাগলের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।


এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) আকলিমা খাতুন গ্রামে গ্রামে ছাগলের মৃত্যুর বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে প্রতিদিন জ¦র আক্রান্ত অসংখ্য ছাগলের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে।


আমরা ইতোমধ্যে ব্লাড স্যাম্পল সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জে ‘ফিল ডিজিজ ইভো. ল্যাবরেটরি’ (এফডিআইএল) তে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। টেস্ট রিপোর্ট এলে ছাগলের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ইউএলও বলেন, ঈশ্বরদীর সব এলাকার পশুদের পিপিআর ভ্যাকসিন দেওয়া আছে। তারপরও প্রায় বেশিরভাগ ছাগলের শরীরে ১০৫ থেকে ১০৭ ডিগ্রি পর্যন্ত জ¦র উঠছে। হঠাৎ করেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।