সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

বাস ভাড়া ক্ষেত্র বিশেষে কমও নেওয়া হচ্ছে: মহাখালী ঘুরে বললেন সড়কমন্ত্রী

সোনার দেশ ডেস্ক ১৬ মার্চ ২০২৬ ০১:৫৩ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৬ মার্চ ২০২৬ ০১:৫৩ অপরাহ্ন
বাস ভাড়া ক্ষেত্র বিশেষে কমও নেওয়া হচ্ছে: মহাখালী ঘুরে বললেন সড়কমন্ত্রী

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে কোথাও ভাড়া বেশি নেওয়ার ঘটনা খুঁজে পাননি সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উল্টো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম রাখা হচ্ছে বলে চোখে পড়েছে মন্ত্রীর।

রাস্তার উপর এলোপাথাড়ি বাস রাখার মতন কোনো বিশৃঙ্খলাও তার চোখে পড়েনি। পাম্পগুলোতে এখনো তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হলেও মন্ত্রী বলছেন গণপরিববনে তেলের কোনো সংকটও নেই। সব মিলিয়ে মন্ত্রী রবিউল মনে করছেন, এবারে ‘স্বস্তির’ ঈদযাত্রা পেতে যাচ্ছে মানুষ।

সোমবার সকালে কর্মকর্তাদের নিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

ঈদযাত্রায় বাসে বেশি ভাড়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, “একটা জায়গাতেও কেউ ভাড়া বেশি নিচ্ছে না। ক্ষেত্র বিশেষে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০-৩০ বা ৫০ টাকা কম নেওয়া হচ্ছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়ায় যাত্রী বহন করে তারা (অপারেটর) অভ্যস্ত। যাত্রীকে আকৃষ্ট করার জন্য তারা এটা করে থাকেন। এখনো অনেকেই সেই কম ভাড়াটাই নিচ্ছেন।”

ভাড়া নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ এখানে নেই। এখানে মোবাইল কোর্ট আছে, ভিজিলেন্স টিম আছে।

“কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা তৎপর আছি।”

নির্ধারিত ভাড়ার ব্যাখ্যায় রবিউল আলম বলেন, “ধরেন সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৭০০ টাকা। অনেক সময় যাত্রী না থাকলে তারা ৫০০ টাকাতেও নিয়েছে। এখনো নিচ্ছে।

“এখন যখন ওই পরিবহন ৬০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে, তখন হয়তো কেউ কেউ ভাবছেন আগের চেয়ে বেশি নিচ্ছে। আমি নিশ্চিত এটা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি না, আগে নেওয়া ভাড়ার চেয়ে হয়তো একটু বেশি।”

মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় রাস্তার দুই-তিন সারিতে বাস রেখে অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো নিত্যদিনের।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী রবিউল বলেন, “আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যে হারে যাত্রী এখান থেকে যাবে,‌ বাসের যে সংখ্যা—সেই সবগুলো বাস এই টার্মিনালে পার্কিং করার সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। বাসগুলো পর্যায়ক্রমে ঢুকছে। একটা বাস ছেড়ে যাচ্ছে, আরেকটা বাস ঢুকছে।

“দশটা বাস ছেড়ে গেলে দশটা বাস ঢুকছে। এখানে কিছুটা বিড়ম্বনা আছে। যেহেতু এই টার্মিনালটা এখনই বড় করা যাচ্ছে না। তবুও আমি বলেছি মূল রাস্তায় যেন বাস চলাচল করতে পারে, ততটুকু শৃঙ্খলা যেন রাখা হয়। একেবারে বন্ধ যেন না হয়ে যায়, যান চলাচল যেন স্বাভাবিক থাকে।

“সেটাই আমরা ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি, আশা করি সফল হব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর আছে, ভলান্টিয়ার আছে, বিআরটিএ এবং মালিক সমিতির লোকেরা আছে। শ্রমিক সমিতির অনেক ভলান্টিয়ার আছে, সব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ হচ্ছে। কোনো ধরনের অসন্তোষ বা সমন্বয়হীনতা আমি এখানে দেখিনি।”

গণপরিবহনের জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সংকট নেই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে যে সংকটটি তৈরি হয়েছে, সেটা ব্যবস্থাপনার মধ্যে আছে। কিন্তু গণপরিবহনের জ্বালানি তেল নিশ্চিত করা হয়েছে।

“গতকাল রাত থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গণপরিববনে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হবে। আমি আগেও বলেছি—তেলের দাম বাড়ছে না, এখনও বলছি।”

তেল পাওয়া নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের সময় উপস্থিত পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সমস্বরে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে কিছুটা হইচই করেন।

তখন মন্ত্রী রবিউল বলেন, “কোথায় গিয়ে তেল পাচ্ছে না এটা আমাকে বলেন। কোন পাম্পের তেল দিচ্ছে না... মালিক সমিতির নেতারা আছেন এখানে। তাদের মাধ্যমে আমাকে জ্ঞাত করেন। তেল দেওয়ার দায়িত্ব আমার।”

ফিটনেসহীন গাড়ি চলাচল নিয়ে কী করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনটি ফিটনেসবিহীন গাড়ি, একটা চিহ্নিত করে সেটা আমাকে জানান। আমরা ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও নিরুৎসাহিত করেছি। আমাদের মনিটরিং টিম দেখছে। আবার গ্যারেজে গ্যারেজে গিয়েও আমরা সতর্ক করে আসছি যে তড়িঘড়ি করে যেনতেনভাবে কোনো গাড়ি যেন হাইওয়েতে চলার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া না হয়।।

“হাইওয়ে পুলিশ তৎপর আছে, এখানে মনিটরিং টিম আছে। সবাই একসাথে কাজ করছে। যদি আপনারা (ফিটনেসবিহীন গাড়ি) দেখেন, আমাদেরকে নাম্বার দেন আমরা ওই মালিক ও গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।”

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, “তবে মনে রাখা দরকার দুই দিন বা আড়াই দিনে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়বে। আপনার রাস্তা, আপনার যে পরিবহন সক্ষমতা- এটার উপর একটা বড় চ্যালেঞ্জ ও চাপ। সেটা মাথায় রেখেই আমাদের সবকিছু করতে হচ্ছে। মনে রাখা দরকার পৃথিবীর এমন কোনো শহর নেই, যেখানে দুই দিনে দুই কোটি লোক ডিপারচার করে।

“এরকম একটা উৎসব, যেটা আমরা গ্রামে গিয়ে উদযাপন করতে অভ্যস্ত। সেখানে যাত্রী চাপ থেকে কিন্তু আবার এর মধ্যে আনন্দও থাকে। আমরা সক্ষমতার শতভাগ দিয়ে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে চাই।”

সার্বিক পরিস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, “যাত্রীদের চাপ আছে এবং যাত্রীরাও নিরাপদে বাসস্টপ থেকে তাদের গন্তব্যের দিকে যাত্রা করতে পারছেন। শৃঙ্খলার সাথে বাসগুলো আছে এবং যে বাসটাই আসছে, যাত্রী ভরে নিয়মিতভাবে স্টেশন ছেড়ে যেতে পারছে। আজ থেকে সরকারি ছুটি হবে। সন্ধ্যা থেকে চাপ বাড়বে। বাড়তি চাপ থাকবে টিকিটের এবং বাসের।

“সেই বাড়তি চাপ কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, সেই ধরনের প্রস্তুতিও আমরা দেখলাম তারা নিয়েছে। যথেষ্ট সংখ্যক বাস এই স্টপেজে রাখা হয়েছে, যত্রতত্র পার্কিং নাই।

“আমি মনে করি এবার একটা নিরাপদ স্বস্তির ঈদ যাত্রা আমাদের জনগণ বাসস্ট্যান্ড বা রেলস্টেশন বা লঞ্চ টার্মিনাল থেকে পেতে চলেছেন।”

এ সময় সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ