সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্রে হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায় দিয়েছে ইরান

সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ মার্চ ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ মার্চ ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ন
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্রে হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায় দিয়েছে ইরান

ইরানের দক্ষিণ পারসে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জন্য ইসরায়েলের দায়ী করে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল, গ্যাস স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক হামলার প্রত্যয় জানিয়েছে ইরান। দেশটি কাতার ও সৌদি আরবের তেল, গ্যাস স্থাপনাকে লক্ষ্যস্থল করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।


বুধবারের এসব ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে আর এতে তেলের দাম উর্ধ্বপানে ছুটতে শুরু করেছে, জানিয়েছে রয়টার্স।


এ দিন বিকালে ইরান কাতারের রাস লাফান জ্বালানি শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ তেল কোম্পানি কাতারএনার্জি জানিয়েছে।


সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা রিয়াদের দিকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে, পাশাপাশি দেশের পূর্বাঞ্চলের এক গ্যাস স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে।


ইরানি সেক্টরের দক্ষিণ পারস বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের খনি। পারস্য উপসাগরজুড়ে বিস্তৃত এই গ্যাসের খনিটি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কাতারের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।


ইরানের দক্ষিণ পারসের স্থাপনাগুলোতে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হামলার জন্য ইসরায়েলকে তিরস্কার করেছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর রাস লাফানে হামলার জন্য ইরানের নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দোহা ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে।


অনামা মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, দক্ষিণ পারসে এই হামলার জন্য ইসরায়েল প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করেনি, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই গ্যাস ক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনা আগে থেকেই জানতেন আর এতে সমর্থন দিয়েছিলেন।


ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, দক্ষিণ পারসের একটি পরিশোধনাগারের কিছু অংশ ও কয়েক গ্যাস ট্যাংকে আঘাত হানা হয়েছে, কর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্যাস ক্ষেত্রটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।


এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বেশ কয়েকটি প্রখ্যাত তেল, গ্যাস স্থাপনার তালিকা দিয়ে সেগুলোকে ‘সরাসরি বৈধ হামলার লক্ষ্যস্থল’ বলে উল্লেখ করেছে। এই সবগুলো দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে।


তালিকায় যে নামগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো হল, সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাস ফিল্ড এবং কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, মেসাইদ হোল্ডিং কোম্পানি ও রাস লাফান।


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার আগেই এসব স্থাপনা খালি করতে বলেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর আগে পারস্য উপসাগরে ইরানের জ্বালানি উৎপাদন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত ছিল। প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল, গ্যাস শিল্পের ওপর ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা এড়ানো এর উদ্দেশ্য ছিল। আন্তর্জাতিক আইনেও রাষ্ট্রগুলোর জন্য বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


যুদ্ধের এই তীব্রতা বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন বিঘ্ন তৈরি করেছে। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে, যিনি প্রায় চার সপ্তাহ আগে ইরানে হামলা চালাতে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেন। ২০২২ সালে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির পর থেকে এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালন প্রতি ৫ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। মুদ্রাস্ফীতির ওই ঘটনায় ট্রাম্পের পূর্বসূরী জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছিল।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এ যুদ্ধ ইরানের পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে দ্রুত প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনের অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন একের পর এক হামলার কারণে এ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোগুলো দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির শিকার হতে পারে। ইতোমধ্যে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি মূল্য ৫ শতাংশ বেড়ে গিয়ে ১০৮ ডলারে ঠেকেছে আর পুঁজি বাজারে দরের পতন হয়েছে।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ