কুমিল্লায় বাসে ট্রেনের ধাক্কা, ১২ জন নিহত
কুমিল্লায় চট্রগ্রাম মেইল ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাস ধাক্কায় ১২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ২০ জন। রোববার (২২ মার্চ) ভোররাতে জেলার জাঙ্গালিয়া কচুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে সাত জন পুরুষ, তিন জন নারী এবং দুজন শিশু রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ইপিজেড ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এস আই) সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভোররাতে জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
‘ঘটনাস্থলে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
তিনটি তদন্ত কমিটি, ২ গেটম্যান বরখাস্ত
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বিশ্বরোডে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লেভেল ক্রসিংয়ে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় রেলওয়ের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া।
এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান। তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জানা গেছে, শনিবার মেহেদী ও হেলাল নামে দুজন গেটম্যান পদুয়ার বাজারে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, আহত আট জন ভর্তি রয়েছেন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাদের বেশির ভাগই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। গুরুতর আহত দুই জনকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সামান্য আহত ১৮ জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার অজয় ভৌমিক।
অপরদিকে, দুর্ঘটনার প্রায় ৫ ঘণ্টা পর আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল ১০টায় বাসটিকে আপলাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ঢাকা মেইল ট্রেনটি সচল করার জন্য কাজ শুরু করে উদ্ধারকারী ট্রেন।
ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেন লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল নামে একটি বাসে ধাক্কা দেয়। ট্রেনটির গতি বেশি থাকায় বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার সামনে ঠেলে নিয়ে যায়।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের পরিবার পাবে ২৫ হাজার টাকা
কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। রোববার (২২ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
এছাড়াও জেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। এই ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ট্রেনটিকে উদ্ধার করতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন আনা হচ্ছে বলে ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন, ঢাকাপোস্ট