মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

মার্কিন চুক্তি আমাদের অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সোনার দেশ ডেস্ক ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৬:৫৭ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৬:৫৭ অপরাহ্ন
মার্কিন চুক্তি আমাদের অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি যেটা হয়েছে, সেটা আমাদের অর্থনীতিকে ডিরেক্টলি ইফেক্ট করে। মানে আমাদের বিশাল একটি তৈরি পোশাক খাত আছে, যেটা আমরা বাইরে রফতানি করি। এখন আমেরিকা চাচ্ছে যে, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে, আমদানি ঘাটও কমাতে চায়, অনেক কিছু চাচ্ছে। সেটাতে আমরা রাজি হয়েছি। কিন্তু অবশ্যই এটা বাস্তবায়নে যেতে পারবো, কিন্তু এটা যাতে আমাদের দেশের অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকে। তিনি বলেন, আমাদের প্রাইভেট সেক্টরের সুরক্ষিত থাকে। দেশের জনগণের ক্ষতি না হয়, সেভাবে আমাদের তাদের সঙ্গে কথাবার্তা আমরা বলছি।



সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ।


শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে তো। এখন ওনারা তো একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, একটা চুক্তি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত আমাদের একটা না অনেক চুক্তি আছে। তো সব চুক্তি নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে। আমি আবারও বলছি, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে আমরা চুক্তিগুলোতে যাবো। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের আরও অনেক চুক্তি, কিন্তু আরও অনেক জায়গায় অনেক সেক্টরে আছে, তো সব চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। সবটা আমাদের বাস্তবায়নযোগ্য, যেটা আমাদের আমাদের অর্থনীতিকে সাহায্য করবে, সেই চুক্তিগুলো নিয়ে আমরা আগাবো। কারণ সব দেশের সঙ্গেই আমাদের কাজ করতে হবে। কারণ বাংলাদেশ একটা এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড দেশ। আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। সুতরাং এগুলো  নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার ভিত্তিতে সবকিছু হবে।


ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত বাই দিস টাইম শুড রিয়েলাইজ দ্যাট, ওই যে একপাক্ষিক তাদের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের ব্যাপারে ছিল, হ্যাঁ ভারতের সঙ্গে গত ১৭ বছর বাংলাদেশের পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি ছিল না। তাদের ফরেন পলিসিটাই ছিল ভিন্ন বিগত দিনে। আমার মনে হয়, ভারত ওই জায়গাটা থেকে সরে এসেছে এবং ভারত বুঝতে পারছে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক রাখতে হলে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রাখতে হবে। সব শ্রেণি-পেশা মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রাখতে হবে। সেই জায়গাটা মনে হয়, ভারত কাজ করছে আমি যেটা বুঝতে পারি। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সবার আগে বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে কাজ করছি এবং ভারতের সাথে সেটা ব্যত্যয় হবে না।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রথম নীতিতেই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবে এবং যেহেতু আমরাও তাদেরকে ঘিরে রেখেছি, তারাও আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে তিন দিকে, আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী, তাদের সাথে আমাদের ইস্যু আছে, বর্ডার ইস্যু আছে, পানি নিয়ে ইস্যু আছে, বিভিন্ন ইস্যু আছে, ট্রেড ডেফিসিট আছে। এইসব সমস্যার যদি আমাদের সমাধান করতে হয়— অবশ্যই কথাবার্তার মাধ্যমে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে আমাদের করতে হবে। তো সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমরা কাজ করবো, আমাদের স্বার্থ আমাদের সম্মান আমাদের সমতার ভিত্তিতে সে সবকিছু হবে।


সার্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ক ছিল শহীদ জিয়ার একটা স্বপ্ন একটা ভিশন। সার্ক যদি সচল থাকতো এত বছর, এই রিজিওনে সাউথ এশিয়ান রিজিয়নে দেশগুলো সার্কভুক্ত দেশগুলো এবং দেশের মানুষ, অর্থনীতি সবকিছু আরও শক্তিশালী জায়গায় যেতে পারতো। তো সেই সার্ক অবশ্যই আমরা পুনুরুজ্জিবিত করতে চাই। আমাদের ম্যানিফেস্টোতে পরিষ্কারভাবে এটা লেখা আছে। সাউথ এশিয়ান দেশগুলোতে আমরা কানেক্টিভিটির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে চাই। আমাদের ভিতরকার ট্রেড, কমার্স, কালচার, স্পোর্টস সব দিক দিয়ে আমাদের কানেক্টিভিটিটা আমরা বাড়াতে চাই। সার্কেরএকটা ফাংশনাল বডি আমরা পরিণত করতে চাই। যেই স্বপ্নটা শহীদ জিয়াউর রহমান করে দেখিয়েছিলেন। সেই জায়গাটা অবশ্যই আমরা কাজ করবো।


তথ্যসূত্র: এএফপি, বাংলা ট্রিবিউন