সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

পাওয়ার গ্রিডে প্রহরীদের বেঁধে ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

সোনার দেশ ২৬ মার্চ ২০২৬ ০২:৪৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সোনার দেশ ২৬ মার্চ ২০২৬ ০২:৪৩ অপরাহ্ন
পাওয়ার গ্রিডে প্রহরীদের বেঁধে ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড থেকে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৫ মার্চ) গভীররাতে উপজেলা বনপাড়ায় নির্মাণাধীন ওই গ্রিডে কর্মরত চার প্রহরীকে বেঁধে রেখে ওই মালামাল লুট করে দূর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ।


গ্রিডের উপসহকারী প্রকৌশলী আনাস আলী জানান, গ্রিডে বতর্মানে সিভিল কনক্ট্রাশন ও ইলেকট্রিক ফিটিংসের কাজ চলছে। তাদের পক্ষ থেকে চারজন পাহারাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ইলেকট্রিক অংশের কাজ করছেন চায়না ন্যাশনাল ওয়ার অ্যান্ড ক্যাবল ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিসি কম্পানি)। 


সিসির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী সোলায়মান আলী জানান, আমরা চায়না কম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। আমাদের লুট হওয়া মালামাল তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে ৩৬৮ পিস ব্যাটারি নিয়ে গেছে, যার মূল্য প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ টাকা, ২ হাজার মিটার তামার তার- যার মূল প্রায় ৫৩ লাখ টাকাসহ অন্যান্য মালামাল মিলে ১ কোটি ৯২ লাখ ষাট হাজার ২৮৯ টাকা। তিনি আরও জানান, এখানে দুটি ডিভিয়ার দ্বারা সিসি ক্যামেরা পরিচালতি হতো। তারা দুটি ডিভিয়ারই নিয়ে গেছে। একই সাথে প্রহরীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে। 


পাহারাদার আবুল কাশেম (৫৫) বলেন, আমি, শফিকুল ৪৮), তার ছেলে সোহাগ (২৪) ও মছেদ আলী (৪২) পাহারাাদার হিসেবে কাজ করি। সবার বাড়ি আশেপাশেই। বুধবার সন্ধ্যায় আমি ডিউটিতে আসি, পরে অন্য তিনজন আসে। সাড়ে ৭ টার দিকে শফিকুল খেতে যায়। বিশ মিনিট পরে গেট খোলার জন্য নক করলে খুলে দেই।  এসময় হঠাৎ পেছন থেকে ৫/৬জন শফিকুলের কলার ধরে ভিতরে নিয়ে এসে বলেন, ছাত্তার কে, এখানে কাজ করে? আমরা ছাত্তার নামে কেউ নেই- জানালে তারা ঘরে চেক করার নামে চারজনকেই নিয়ে আসে। এসময় হঠাৎ অস্ত্র বের করে আমাদের জিম্মি করে বেঁধে ফেলেন। হাত, মুখ, চোখ, পা বেধে হুমকি দেয়- কোন শব্দ করলে প্রাণে মেরে ফেলবো। এরপর ভিতরে গাড়ি ঢোকা এবং কাজ করার শব্দ পাই। প্রায় ৪/৫ ঘণ্টা পরে গাড়ি বের হয়ে যাওয়ার শব্দ পাই। অনেকক্ষণ শব্দ না পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে বেশ চেষ্টা করে সোহাগ তার বাবা শফিকুলের পা ও হাতের বাঁধন খুলে দেয়া। পরে শফিকুল সবার বাঁধান খুলে দেয়। আমাদেরকে একটা ঘরে আটকে বাহির থেকে ছিটকিনি দিয়ে রাখা হয়েছিল। আমরা পর্দার স্ট্যান্ড খুলে সেটা দিয়ে ছিটকিনি খুলে রাত সাড়ে ৪টার দিকে বের হই। এরপর আমরা বাহিরে গিয়ে একজনের ফোন নিয়ে ৯৯৯ এ ফোন দেই। একই সাথে ইঞ্জিনিয়ার স্যারদের জানাই।


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুমন কুমার, (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড়, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম, বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন কুমার প্রমূখ।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড় বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা উদঘাটনে ডিবি টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক এবং মালামাল উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।