সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

পেট্রোডলার সাম্রাজ্যের পতন ঘটাতে পারে ইরান যুদ্ধ: ডয়চে ব্যাংক

সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৯ অপরাহ্ন অর্থনীতি
সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৯ অপরাহ্ন
পেট্রোডলার সাম্রাজ্যের পতন ঘটাতে পারে ইরান যুদ্ধ: ডয়চে ব্যাংক
ডয়চে ব্যাংকের মতে, পেট্রোডলারের মূল ভিত্তি হলো মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টি। প্রতীকী ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের আধিপত্য বা ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে পারে। জার্মানিভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক ডয়চে ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


ডয়চে ব্যাংকের গবেষক মল্লিকা সচদেব তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে ডলারের ভূমিকার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান সংঘাত পেট্রোডলার ব্যবস্থার ভিত্তিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।


১৯৭৪ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক চুক্তির মাধ্যমে এই ব্যবস্থার সূচনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো বিশ্ববাজারে ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রি করবে এবং সেই অর্থ পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বর্তমানে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড রয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো তাদের মুদ্রার মান ডলারের সঙ্গে সমন্বয় করে রাখে।


ডয়চে ব্যাংকের মতে, পেট্রোডলারের মূল ভিত্তি হলো মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টি। কিন্তু চলমান ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামো ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এই আস্থার সংকট তৈরি হবে।


ইরান বর্তমানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং কোন জাহাজ সেখান দিয়ে যাবে তা তারাই নির্ধারণ করছে। ডয়চে ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা ডলারে রাখা তাদের বৈদেশিক সম্পদ সরিয়ে নিতে উৎসাহিত হতে পারে।’


ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে তেলের বাজারে ডলারের বিকল্প ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। চিন এখন রাশিয়া থেকে ইউয়ান ও রুবলের বিনিময়ে তেল-গ্যাস কিনছে। ইরানের তেলের ৯০ শতাংশই যায় চিনে। এ ছাড়া সৌদি আরবের তেলেরও বড় গ্রাহক চিন।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ ভবিষ্যতে ‘পেট্রোডলারের আধিপত্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার এবং পেট্রোইউয়ানের যাত্রা শুরুর অনুঘটক’ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে পারে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এখন আর হরমুজ প্রণালির প্রয়োজন নেই কারণ তারা জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তিনি বলেছিলেন, ইউরোপ, কোরিয়া, জাপান ও চীনের এই পথটি প্রয়োজন। তাদেরই এখন এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।


তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, বাংলাট্রিবিউন