পত্নীতলায় তেল সংকট আতঙ্কে ফিলিং স্টেশনে উপচেপড়া ভিড়
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে শুরু হয়েছে তেল সংকট, সেই প্রভাব পড়েছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায়। জ্বালানি তেল আসার খবর পেয়েই পত্নীতলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করতে শুরু করে ট্রাক্টর, ট্রাক, বাস, প্রাইভেটকার, ব্যক্তিগত মোটরবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। তবে মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে সিরায়াল মেনে তেল কেউ পাচ্ছেন আবার লাইনে দাঁড়িয়েও কেউ পাচ্ছেন না তেল! এতে কয়েক ঘণ্টা সময় নষ্ট করে না না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল আরোহী কেউ কেউ।
সময় গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে জ্বালানি তেল বিতরণে পুলিশের সহায়তা নিতে বাধ্য হয় ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার থেকে উপজেলার ৫ টি ফিলিং স্টেশনে এমনই চিত্র দেখা যায়। উল্লেখ্য, উপজেলা সদর নজিপুর পৌর এলাকাতে ৩টি ও ইউনিয়ন পর্য়ায়ে আরও ২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন নামে মোটরসাইকেল আরোহী চালক জানান, ‘দু’ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, ভিড়ের কারণে তেল নিতে বিলম্ব হচ্ছে।’
ধান চাষী মানিক হোসেন জানান, ‘সেচ কাজের জন্য তেল নিতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।’
রায়হান আরেক নামের মোটরবাইক চালক বলেন, ‘প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। বাইকে মাত্র ২০০ টাকার তেল দিচ্ছে।’
‘আম বাগান ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান অভিযোগ তুলে বলেন, পেট্রোল দিয়ে মেশিনের মাধ্যমে আম বাগানে কীটনাশক স্প্রে করার উপযুক্ত মৌসুম চলছে। কিন্তু, চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়াতে আম বাগানে কীটনাশক স্প্রে করা সম্ভব হচ্ছে না।’
ফিলিং স্টেশনের স্টাফ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মোটরবাইকের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই চাপ বাড়ছে। একই মোটরসাইকেল ৩ থেকে ৪ বার তেল নিয়েছে। তাদের কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না।
পত্নীতলা উপজেলার ফিলিং স্টেশন এর কর্মরতগণ এই প্রতিবেদককে জানান, ঈদের দিন দুপুর থেকে তেলের সরবরাহ কম। চাহিদা বাড়ছে। এরই মধ্যে হাজার হাজার মোটরবাইক এসে ভিড় করেছে। ফিলিং স্টেশন ও স্টাফদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছি আমরা।
তবে, প্রশাসনের নির্দেশে বর্তমানে বৈধ কাগজপত্র যাদের আছে। সেইসব চালকের গাড়িতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।