সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
আশঙ্কা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার

হরমুজ অবরোধের কারণে এপ্রিলে দ্বিগুণ বাধার মুখে পড়বে তেল পরিবহণ

সোনার দেশ ডেস্ক ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
হরমুজ অবরোধের কারণে এপ্রিলে দ্বিগুণ বাধার মুখে পড়বে তেল পরিবহণ

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের কারণে এপ্রিল মাসে তেল সরবরাহে বিঘ্ন দ্বিগুণ হবে। আর তার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ইউরোপে। বুধবার এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র প্রধান ফাতিহ বিরোল। তিনি বলেন, ‘‘তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউরোপে উপর এ বার প্রভাব পড়বে।’’


গত মাসে আইইএ জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে তারা কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যপূরণ সে সম্ভব হয়নি, তা কার্যত স্বীকার করেছেন বিরোল। তিনি বলেন, ‘‘এপ্রিল মাসে তেলের ক্ষতি মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হবে, তার সঙ্গে এলএনজি-র ক্ষতিও যুক্ত হবে। আজ সবচেয়ে বড় সমস্যা হল জেট ফুয়েল ও ডিজেলের অভাব। আমরা এশিয়ায় তা দেখছি, তবে আমার মনে হয় শিগগিরই, এপ্রিল বা মে মাসে, তা ইউরোপেও পৌঁছাবে।’’


বিরোল জানান, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে এখনও পর্যন্ত প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদ (তৈলকূপ ও শোধনাগার) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’’ ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ২ মার্চ থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। যা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহণের পথ। হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ না তুললে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি তেহরান। এই পরিস্থিতিতে কুয়েত ও ইরাকের মতো উপসাগরীয় তেল রফতানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালী না খুললে তাদের তেল পাঠানোর কোনও উপায় নেই। আইইএ-র আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে গরিব দেশগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভয়াবহ জ্বালানি ঘাটতির মুখে পড়বে। কারণ অবশিষ্ট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়বে।


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন