সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

পৃথিবীর শেষদিন কবে? বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে ফের জোর চর্চা

সোনার দেশ ডেস্ক ২১ জুন ২০২৬ ০৯:৪২ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২১ জুন ২০২৬ ০৯:৪২ অপরাহ্ন
পৃথিবীর শেষদিন কবে? বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে ফের জোর চর্চা

রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবে পরিচিত বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আবারও সামনে এসেছে তাঁর একটি বহুল প্রচারিত দাবি, যেখানে বলা হয় যে ৫০৭৯ সালেই মানবসভ্যতার সমাপ্তি ঘটবে। যদিও এই দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং গবেষকদের অনেকেই এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও প্রতি বছরই বাবা ভাঙ্গার বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। 


বাবা ভাঙ্গা, যার প্রকৃত নাম ভ্যাঞ্জেলিয়া পানদেভা গুশতেরোভা, ছিলেন বুলগেরিয়ার এক অন্ধ নারী। সমর্থকদের দাবি, তিনি ভবিষ্যতের নানা ঘটনা আগাম দেখতে পেতেন। তাঁর নামে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অন্যান্য বিশ্বঘটনার মতো নানা ভবিষ্যদ্বাণী প্রচলিত রয়েছে। 


তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এসব দাবির বড় অংশই পরে তৈরি হয়েছে বা প্রমাণিত নথির অভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বাবা ভাঙ্গা মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি দীর্ঘ সময়রেখার কথা বলেছিলেন। 


সেই তালিকায় বিভিন্ন শতাব্দীতে যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, মহাকাশে মানুষের বিস্তার এবং ভিনগ্রহের প্রাণের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের মতো নানা ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার শেষেই ৫০৭৯ সালে পৃথিবী বা মানবসভ্যতার অবসানের কথা বলা হয়। তবে বিজ্ঞানীরা এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন না।


পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা করা জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ভূবিজ্ঞানী এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও নির্দিষ্ট বছরে পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে—এমন দাবি সমর্থন করার মতো কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার, প্রযুক্তির দায়িত্বশীল প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বাস্তব বিষয়গুলির ওপর। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পৃথিবীকে ঘিরে নানা ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী বা ‘প্রলয়ের ভবিষ্যৎবাণী’ অতীতেও বহুবার সামনে এসেছে। 


২০০০ সাল, ২০১২ সাল কিংবা অন্য বিভিন্ন সময়কে ঘিরেও পৃথিবীর শেষ হওয়ার দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে সত্যি প্রমাণিত হয়নি। তাই বাবা ভাঙ্গার ৫০৭৯ সালের ভবিষ্যদ্বাণীকে অনেকেই সাংস্কৃতিক কৌতূহল বা লোকবিশ্বাসের অংশ হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন।


ইতিহাস, রহস্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের স্বাভাবিক আগ্রহ থেকেই এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী জনপ্রিয়তা পায়। তবে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও যাচাইযোগ্য প্রমাণের অভাবে এগুলিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। সব মিলিয়ে, ৫০৭৯ সালে পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে—এমন দাবির পক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। ফলে এই ভবিষ্যদ্বাণীকে রহস্যময় এক কিংবদন্তি হিসেবেই দেখা উচিত, বাস্তব ভবিষ্যতের নির্ভুল পূর্বাভাস হিসেবে নয়।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন