সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

গমের ফলনে খুশি চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন কৃষি
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
গমের ফলনে খুশি চাষিরা

রাজশাহীতে গেলবারের মতো এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে গমের। ভাল ফলন ও দাম থাকায় গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন চাষিরা। এতে প্রতি মৌসুমেই গম চাষ বাড়ছে। অন্য বছর থেকে এ বছরও বেশি জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। 


চাষিরা বলছেন, গম চাষে প্রতি বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মন করে গমের ফলন পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বাজারে দামও তুলনামূলক অনেক ভাল রয়েছে। এবারও ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন। অনেক কৃষক আমন ধান কাটার পর পরই আলু বা সরিষা রোপণ না করে গম চাষ করেছেন। অল্প খরচে গম চাষে ভালো লাভবান হওয়া যায়। এখন গম কেটে নিচ্ছেন চাষিরা। 


রবি মৌসুমে রাজশাহী বিভাগে ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। এই অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। 


কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে গমের চাষ বাড়ছে। অন্য ফসলের তুলনায় এতে লাভ বেশি হয়। পানিও কম প্রয়োজন হচ্ছে। তাই গম চাষে আগ্রহী হচ্ছে চাষিরা। চাষিরা বারি-৩০, বারি-৩২ ও বারি-৩৩ এর মতো উন্নত জাতের গম চাষ করছেন। এগুলো উচ্চ ফলনও দিচ্ছে।  


চাষিরা জানান, গমের জন্য তুলনামূলকভাবে কম সেচ এবং শ্রমের প্রয়োজন হয়। যা লাভজনক ফসল করে তোলে। জলবায়ু-সহনশীল জাত প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কৃষক গম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।


গোদাগাড়ী উপজেলার ভাটুপাড়া গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন ১০০ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের গম চাষ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘা গম চাষে খরচ সাড়ে ৬ থেকে ৭ টাকার মধ্যে।  বীজ বপন থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত মাত্র দুবার সেচের প্রয়োজন হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। 


তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ করে তানোরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ায় কৃষকদের সীমিত সেচ ব্যবস্থায় গম চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গম চাষ সম্প্রসারণে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা, প্রদর্শনী এবং বীজ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে উন্নত গমের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।


রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমি গম চাষের আওতায় আনা হচ্ছে কৃষকদের।


আঞ্চলিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহেরুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা গম চাষের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন কারণ এই ফসলের জন্য তুলনামূলকভাবে কম জলের প্রয়োজন হয়। গবেষণা কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত ২৪টি গমের জাত এবং বাণিজ্যিক চাষের জন্য বেশ কিছু সময়োপযোগী প্রযুক্তি প্রকাশ করেছে।


সম্প্রতি প্রকাশিত জাতগুলির মধ্যে, প্রদীপ, বিজয়, শতাব্দী এবং বারি গম-২৬ পাতার ঝলসানো এবং পাতার মরিচা রোগ প্রতিরোধী এবং উচ্চ ফলন দেয়। সর্বশেষ জাত বারি-৩৩ ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী, দস্তা সমৃদ্ধ, বড় দানাদার এবং উচ্চ ফলনশীল।