সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকি ‘হাস্যকর’: ইরানের নৌবাহিনী প্রধান

সোনার দেশ ডেস্ক ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৩৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৩৩ অপরাহ্ন
হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকি ‘হাস্যকর’: ইরানের নৌবাহিনী প্রধান
ইরানের নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি

ইরানের নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকিকে খুবই ‘হাস্যকর’ ও ‘কৌতুকপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি বাহিনী এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবহরের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।

ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর সাহসী সেনারা এই অঞ্চলে আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব গতিবিধি ট্র্যাক এবং পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি আরো যোগ করেন, “তৃতীয় বারের মতো চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর শোচনীয় পরাজয়ের পর ইরানের ওপর নৌ অবরোধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকিগুলো খুবই হাস্যকর ও কৌতুকপূর্ণ।”

রবিবার (১২ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার নির্দেশ দেন। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ ২০ ঘণ্টার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ট্রাম্প এই আক্রমণাত্মক ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প আরো হুঁশিয়ারি দেন যে, যেসব জাহাজ ইরানকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা মাশুল প্রদান করবে, সেগুলোকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন বাহিনী আটক করবে।

প্রেস টিভির প্রতিবেদন তথ্যানুসারে, এর জবাব ইরানের নৌবাহিনী প্রধান ট্রাম্পের হুমকিকে ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখান করার মাধ্যমে দিলেন। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আইআরজিসি নৌবাহিনী ঘোষণা করেছে যে, এই প্রণালি ‘আর কখনও আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য।’

বর্তমানে তেহরান বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও আগ্রাসী দেশ ও তাদের সমর্থকদের জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া ইরানি পার্লামেন্ট বর্তমানে একটি নতুন খসড়া আইন নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো- হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরানের জাতীয় মুদ্রায় মাশুল ধার্য করা এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি