জাগ্রত দ্বারে, স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩
আজ সোমবার পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের উৎসব-আয়োজনে মেতে ওঠার দিন। মানুষে মানুষে মহামিলনের দিন। রঙে রঙে রাঙ্গার দিন, রাঙ্গানোর দিন।
পহেলা বৈশাখ- বর্ষবরণ ভাবে-অনুভবে দুরন্ত চনমনে মন, অমলিন। মানুষে মানুষে মহামিলনের সেতু অবিচ্ছিন্ন অটুট- যেথা শুধুই আনন্দ-উৎসবের দোলা আর মান্যতার গান গুঞ্জরিত হয়।
কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সন ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় বাঙালির এই বাংলা সন।
১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।
পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে।
দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনের মধ্য থেকে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দিয়েছে। যদিও এ বছর বাংলা নববর্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার স্থলে ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’ বের হবে।
বাংলা নববর্ষ উদযাপন বাংলাদেশের সার্বজনিন একটি এবং একমাত্র উৎসব। ধর্ম-বর্ণ, ধনি-গরিব নির্বিশেষে এটি সবার উৎসব। বাংলা নববর্ষের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বারবার জাগ্রত হয়, শাণিত হয়-শপথে, অঙ্গীকারে।
বাংলা নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ রীতি এখনও এদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির আমেজ নিয়ে উৎসবের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। কৃষক সমাজ আজও অনুসরণ করছে বাংলা বর্ষপঞ্জি। এককালে কেবল গ্রামাঞ্চলেই পয়লা বৈশাখের উৎসবে মেতে উঠতো মানুষ। নানা অনুষ্ঠান, মেলা আর হালখাতা খোলার মাধ্যমে- তখন করানো হতো মিষ্টিমুখ। এখন আধুনিক বাঙালি তাদের বাংলা নববর্ষকে সাজিয়ে তুলে মাতৃভূমির প্রতিটি আঙিনায় আরও বেশি উজ্জ্বলতায়, প্রাণের উচ্ছ্বলতায়, আরো বর্ণিল করে।
নববর্ষ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিশেষ ক্রোড়পত্র ছাড়াও নানাবিধ প্রবন্ধ- রচনা, কবিতা প্রকাশিত হয়। অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে বিশেষ আয়োজনে প্রচারিত, সম্প্রচারিত হবে বৈশাখের মাহাত্ম্য।
বাংলা ১৪৩২ সনকে বিদায় এবং চেতনায়-অনুভবে জাগ্রত দ্বারে, স্বাগত নববর্ষ ১৪৩৩ ।