সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

রাবিতে অপরিপক্ব ফল সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা, আয়োজিত হবে ‘মধুফল উৎসব’

রাবি প্রতিবেদক ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১০ অপরাহ্ন
রাবিতে অপরিপক্ব ফল সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা, আয়োজিত হবে ‘মধুফল উৎসব’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল অপরিপক্ক অবস্থায় সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রশাসন। এসব ফল পরিপক্ক অবস্থায় সবার জন্য সমানভাবে বণ্টনের লক্ষ্যে জৈষ্ঠ্য মাসের মাঝামাঝি সময়ে আয়োজন করা হবে ‘মধুফল উৎসব’।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পাশাপাশি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ক্যাম্পাসে মাইকিং-ও করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী জ্যৈষ্ঠ মাসের মধ্যবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে মধুফল উৎসব আয়োজিত হবে। এতদুপোলক্ষে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মসহকারীদের নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ফলাহার ও আপ্যায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফলগাছের অপরিপক্ক আম, লিচু, কাঁঠাল প্রভৃতি ফল সুরক্ষায় যত্নশীল হতে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগে সক্রিয় উচ্চতর কমিটি গঠন করে নির্ধারিত তারিখে বিশেষ বুথ স্থাপনের মাধ্যমে পরিপক্ক ফল সংগ্রহ করে, সকলের আহারের জন্য সুষ্ঠু বণ্টন প্রক্রিয়া অনুসরণে এই মধুফল উৎসব হবে। সকল শিক্ষার্থী বা প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে অপরিপক্ক ফল নষ্ট কিংবা নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

উৎসবের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছগুলোতে প্রায়ই বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে ফল নষ্ট হতে দেখা যায়। এ উৎসবের মাধ্যমে যেমন সবাই মধুফল খেয়ে মিষ্টিমুখ করতে পারবে, তেমনি একটি উৎসবমুখর পরিবেশও সৃষ্টি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা যদি সহযোগিতা করে এবং ফলগুলো নষ্ট না করে তাহলে এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

ছাত্র উপদেষ্টা আরও বলেন, হলভিত্তিক আয়োজন করা যেতে পারে। প্রতিটি হলে প্যান্ডেল করে বুথের মাধ্যমে ফল পরিবেশনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ উৎসবের মাধ্যমে যেমন সারাদেশে সাড়া ফেলা সম্ভব, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

ফল সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি জানান, সতর্কতার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব গাছ ইজারা (টেন্ডার) দেওয়া আছে, সেগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত গাছগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাসে ফল দেয় এমন গাছের সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক। পরিপক্ক ফল দিয়েই এ উৎসব আয়োজন করা হবে। কাঁচা অবস্থায় ফল নষ্ট হওয়া রোধ করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।