ঈশ্বরদীতে ছাত্রশিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর, আহত ৭
পাবনার ঈশ্বরদীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কলেজ চত্বরে থাকা ঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের কার্যালয় ভাংচুর, ককটেল বিষ্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সংঘর্ষ, বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ইটপাটকেলের আঘাতে উভয় দলের ৭ জন আহত হয়েছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির এ ঘটনার জন্য উভয় দলকে দায়ি করেছে। কলেজের সামনে থেকে একটি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে তাদের কর্মকাণ্ড বিতর্কিত উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করা হয়। এ কর্মসূচীতে ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতা কর্মীরা অংশগ্রহণ করে। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করে ঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বৃহস্পতিবার ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এদিকে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন দাবি করেন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ‘শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্র্থে’ গতকাল ছাত্রদলের পূবনির্ধারিত অবস্থান কর্মসূচীর জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজ গেটে অবস্থান করছিল। এসময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের অফিস ভাংচুর করে। ছাত্রশিবিরের এই কর্মকাণ্ডে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা প্রদান করতে ইটপাটকেল ছুঁড়লে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজিব হাসান এ সংঘর্ষের জন্য ছাত্রদলকে দায়ি করেন।
ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের পরপরই জেলা ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম নয়ন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবির হাসান সুমন, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির জিহাদ, সাবেক যুগ্মসম্পাদক বিকি আগরওয়াল, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সম্্রাট হোসেন, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালিদ বিন প্রার্থীব, সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম, ছাত্রদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া, ইব্রাহিম হোসেনসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একজোট হয়ে কলেজে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসান বলেন, শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে তাদের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে ছাত্রদল। ছাত্রদল গতকাল বহিরাগতদের নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে। সেখানে আমরা ছাত্রদের নিয়ে বিক্ষোভ করার সময় আমাদের মিছিলকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল ছোঁড়েন ছাত্রদলের কর্মীরা। আমরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তারা আমাদের উদ্দেশ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে। এসময় আমরা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
ঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন প্রার্থীব বলেন, কলেজের সামনে ছাত্রদলের পূর্বনির্ধারিত অবস্থান কর্মসূচী চলাকালে ছাত্রশিবির মিছিল নিয়ে সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে ইটপাটকেল ও পরে গুলিবর্ষণ করে। এক পর্যায়ে তারা ছাত্রদলের অফিস ভাংচুর করে। তিনি বলেন, ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজে বিক্ষোভ করবে এতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা কলেজে কোন প্রকার নৈরাজ্য সহ্য করবো না।
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আমজাদ হোসেন বলেন, কলেজে ছাত্রদের নানা কর্মসূচী থাকবে এটা স্বাভাবিক। ছাত্রদলের মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচী ও ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ কর্মসূচীর জন্য আমার কাছে তারা অনুমতি চেয়েছে। তবে কলেজে ইনকোর্স পরীক্ষা চলছে বিধায় তাদের দুপুর ১২ টায় কর্মসূচীর সময় দেওয়া হয়। বহিরাগতদের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রদের রাজনৈতিক কর্মসূচীতে বহিরাগত থাকেই। এসব কর্মসূচীর সময় স্টুডেন্ট আইডি দেখে শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। বহিরাগতদের প্রবেশে শতভাগ নিষিধাজ্ঞা নিশ্চিত করব। একই সাথে কলেজে চলমান পরীক্ষা যথাযথ ভাবে চলবে। আমরা আপাতত কোন কর্মসূচী কলেজে করতে দেব না। তবে কোন মামলা হলে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।