বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

নাটোরে ৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর বয়স দেখিয়ে মামলা!

নাটোর প্রতিনিধি ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩২ অপরাহ্ন
নাটোরে ৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর বয়স দেখিয়ে মামলা!

নাটোরের গুরুদাসপুরে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে মামলার এজাহারে শিশুটির বয়স ২১ বছর দেখিয়ে তাকে আসামী করা হয়েছে। 


রোববার (২৬ এপ্রিল) শিশুটি তার বাবার সঙ্গে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জামিন মঞ্জুর করেন এবং মামলার বাদী শাহানুর রহমানকে আদালতে মামলার ধার্য্য তারিখে হাজির হতে নোটিশ জারির নির্দেশ দেন।


ভুক্তভোগী ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল গুরুদাসপুর  উপজেলার ধারাবারিষা শাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গুরুদাসপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এই ঘটনায় ১০ এপ্রিল শ্রাবণের বাবা শাহানুর রহমান বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।


ওই মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় ধারাবাড়িষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র হোসেন আলীকে। তার জন্মসনদ অনুযায়ী বয়স মাত্র সাত বছর। 


রোববার দুপুরে  ওই শিশুর বাবা শাহজাহান আলীর হাত ধরে আদালতে হাজির হয় ছেলে হোসেন আলী। মামলার এজাহারে বয়সের এই বিশাল গরমিল দেখে নাটোর শিশু আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিস্ময় প্রকাশ করেন। আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষও এ ঘটনায় হতবাক হন। শুনানি শেষে বিচারক শিশুটির জামিন মঞ্জুর করেন এবং মামলার বাদী শাহানুর রহমানকে আদালতে হাজির হতে নোটিশ জারির নির্দেশ দেন।


এবিষয় শিশু হোসেন আলীর আইনজীবী শামীম হোসেন বলেন, ঘটনার দিন শিশু হোসেন আলী তার নিজ স্কুল ধারাবাড়িষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসে উপস্থিত ছিল। শুধুমাত্র প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই বাদী এই হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। সাত বছরের একটি শিশুকে ২১ বছরের যুবক দেখিয়ে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো আইনের অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।


আদালত চত্বরে শিশু হোসেন আলীর বাবা শাহজাহান আলী বলেন, আমার অবুঝ শিশুকে নিয়ে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে, কখনো ভাবিনি। যারা এমন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে, আমি তাদের বিচার চাই।


নাটোর জজ কোর্টের পিপি রুহুল আমীন তালুকতার টগর আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি মামলায় অনেক সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিবারের সবাইকে আসামি করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে কোনো শিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত হলে পুলিশের তদন্ত পর্যায়েই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা উচিত ছিল। কীভাবে একটি সাত বছরের শিশুর নাম তদন্ত এড়িয়ে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।