ঈশ্বরদীতে ছাত্রদলের মামলায় শিবিরের ১২ নেতাকর্মী কারাগারে
পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ শিবির নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পাবনা আমলী-২ আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলম এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবী কামাল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ চত্বরে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচী চলাকালে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশের কর্মসূচি পালনের সময় ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ছাত্রদলের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। কলেজ ক্যম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এসব ঘটনা ঘটে। ওই দিন ছাত্র শিবির মিছিল নিয়ে কলেজের গেটের দিকে গেলে ছাত্রদলের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এসময় ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও মারামারিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরদিন শুক্রবার কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব বাদী হয়ে ছাত্র শিবিরের ৩১ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৬০-৭০ জনসহ শতাধিক নেতাকর্মীদের আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ওই মামলার আসামীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ চত্বরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আসামী করে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে ছাত্রশিবির।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) পাবনা জেলা ছাত্র শিবিরের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক বুরহান আলী আলভী বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব, সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়ামসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আর ৬০-৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে।