তিন জেলায় সড়কে প্রাণ গেল ১১ জনের
দেশের তিন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেটে। সেখানে আট শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দু‘জনের মৃত্যু হয়েছে। আর কুমিল্লা মোটর সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সিলেটে সড়কে ঝরল ৮ শ্রমিকের প্রাণ
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই সঙ্গে ৮ জন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।
রোববার (৩ মে) সকাল ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ৪ জনের নামপরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি (৩৫), সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল (৩০) এবং দিরাই উপজেলার নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫)। অন্য ৪ জনের নামপরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরের কালিবাড়ি এলাকার তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার রামিন (৪০) ও একই এলাকার আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার রাজা মিয়া (৪৫)।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে সিলেট থেকে একটি ডিআই পিকআপে করে বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক লালাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কাঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনার পর থেকেই পিকআপ ও ট্রাকউভয় চালক পলাতক রয়েছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই আরোহী নিহত হয়েছেন।
রোববার সকাল ৬টার দিকে নাচোল-আড্ডা সড়কের বেনিপুর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ।
নিহতরা হলেন- সোহাগ (১৭) ও রবিউল আউয়াল (২২)। সোহাগের বাড়ি নাচোল উপজেলায় এবং রবিউল আউয়ালের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলায়। তারা সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই।
ওসি সুকোমল বলেন, সকালে সোহাগ ও আউয়াল মোটরসাইকেলে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি জানান, মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুমিল্লায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে কভার্ড ভ্যানের চাপায় শিশুর মৃত্যু
ভাঙাচোরা সড়কের ঝাঁকুনিতে সে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
কুমিল্লায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় বাবার মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে এক শিশুর প্রাণ গেছে।
রোববার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌরসভার বানিয়াপাড়া আজগর আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দেবিদ্বার থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান।
নিহত আট বছর বয়সী মো. খালিদ হোসেন একই উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন স্বপনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, পৌর এলাকার বাবুস সালাম নামের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। পথে ভাঙাচোরা সড়কের ঝাঁকুনিতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে সে। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি কভার্ড ভ্যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর শিশুটির রক্তাক্ত লাশ তার বাবা নিয়ে যান।
বাবুস সালাম মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবু সাঈদ বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেন গত সপ্তাহে তাদের মাদ্রাসার দাপ্তারিক কাজ দেখাশোনার জন্য চাকরিতে যোগ দেন। এরপর থেকে খালিদও তার সঙ্গে নিয়মিত আসা-যাওয়া করত।
তিনি বলেন, “সকালে মাদ্রাসার কাজ শেষ করে বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খালিদ বাবা সঙ্গে এমনি মাদ্রাসায় যাতায়াত করলেও সে এখনও ভর্তি হয়নি।”
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, “শিশুটি ঘটনাস্থলে মারা গেছে। সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি।”
তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট, বিডিনিউজ