সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

পুঠিয়ায় নেশার টাকা না পেয়ে নিজের ঘরে আগুন, ৫ বাড়ি পুড়ে ক্ষতি ১০ লক্ষ টাকা

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি ০৫ মে ২০২৬ ০৯:৩১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি ০৫ মে ২০২৬ ০৯:৩১ অপরাহ্ন
পুঠিয়ায় নেশার টাকা না পেয়ে নিজের ঘরে আগুন, ৫ বাড়ি পুড়ে ক্ষতি ১০ লক্ষ টাকা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় নেশা ও অনলাইন জুয়ার টাকা না পেয়ে নিজের বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আনিছ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।


এ ঘটনায় তার নিজের ঘরসহ আরও চারটি পরিবারের বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। আগুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।


সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার ভালুকগাছি ইউনিয়নের শুকদেবপুর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত আনিছ তার স্ত্রী সোহাগীর কাছে টাকা দাবি করেন। স্ত্রী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তার ভাই  হাবিবুর রহমান (হাবু), ইয়াছিন, বাবু, ইয়ানুছ ও নূর ইসলামের টিনশেড ঘরেও।


এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে পাঁচটি বসতবাড়ি ও ঘরের আসবাবপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া ঘরে মজুত থাকা প্রায় ১৫০ মণ পেঁয়াজও আগুনে নষ্ট হয়ে যায়।


ভুক্তভোগী সোহাগী জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মোবাইলে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে সংসারের অনেক টাকা নষ্ট হয়েছে। ঘটনার দিনও তিনি টাকা চাইলে না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।


আনিছের এক ভাই অভিযোগ করেন, সে নিয়মিত জুয়া খেলে ও নেশা করে। টাকা নিয়ে প্রায়ই পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া হতো। আগুন দেওয়ার পর হাতে দা নিয়ে বসে ছিল, যাতে কেউ আগুন নেভাতে না পারে।


ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক সহায়তা দেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে আরও সহায়তার আশ্বাস দেন।


পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা জেনেছি,  ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। 


এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।