ঈশ্বরদীতে দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসবে এলাকাবাসীর মিলনমেলা
শহরের যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ছেড়ে একদিনের জন্য গ্রামের পুরনো ঐতিহ্যময় বৈশাখ বরনের নান্দনিক ‘বৈশাখী উৎসবে’ মেতে উঠেছিলেন শহরবাসী। শিশু থেকে আশি বছরের বয়স্ক এলাকাবাসী সবাই দিনভর মেতে উঠেছিলেন গ্রামের নানা ধরনের পুরনো খেলা, র্যাফেল ড্রয়ে ভাগ্য পরীক্ষার পাশাপাশি পুরষ্কার বিতরণ ও বাংলা সংস্কৃতির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। সবাই আধুনিকতা ছেড়ে একদিনের জন্য ফিরে যান লালন, ভাওয়াইয়াসহ পুরনো দিনের বাংলা গানে। বাংলা বর্ষবরনে বাঙালিপনায় দিনটি আনন্দে উৎসবে কাটিয়ে দেন এলাকার সব বয়সী নারী-পুরুষ।
‘বৈশাখ আনে নতুন দিনের চেতনা’Ñ এই শ্লোগানে গতকাল শুক্রবার পাবনার ঈশ্বরদী পৌর শহরের রহিমপুর রেলওয়ে রানিংরুম মাঠে এই উৎসবের আয়োজন করে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডবাসী। খেলাধুলা’র আয়োজনে ছিল শিশুদের চকলেট দৌড়, প্রবীণ পুরুষদের ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, বালকদের মোরগ যুদ্ধ, পুরুষদের চোখ বেঁধে হাঁড়ি ভাঙা, নারীদের বাজনা থামলে বালিশ কোথায়, অতিথিদের গানে গানে পরিচয়, সব বয়ীদের জন্য যেমন খুশি তেমন সাজোসহ নানান ধরনের গ্রামীন খেলার প্রতিযোগীতা।
পাবনার ঈশ্বরদীতে শিশু কিশোর থেকে বয়স্ক নারী-পুরুষ সববয়সী এলাকাবাসীর স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহনে দিনব্যাপী এই বৈশাখী উৎসব গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের ‘চকলেট দৌড়’ থেকে শুরু করে বয়স্কদের ‘চোখ বেঁধে হাঁড়ি ভাঙা’ প্রতিযোগীতা ছাড়াও ছিল ‘গানে গানে ভাগ্য পরীক্ষা’র মত আনন্দময় সব খেলার আয়োজন। এলাকাবাসীর স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে বৈশাখী উৎসব লোকোজ উৎসবে রূপ নেয়।
বৈশাখী উৎসব উৎযাপন কমিটির আহ্বায়ক এ. কে. এম ফজলুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে এসব আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক আব্দুল মান্নান টিপু। আয়োজনের সমন্বয় করেন সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান সিহাব।
উৎসব বাস্তবায়নে আলাউদ্দিন আহমেদ, খসরু ইসলাম আক্কাছ, ফজলে রাব্বি মানিক, ফরজ আলীসহ প্রায় ২৫ জন এলাকাবাসী গত ১৫ দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে এই উৎসবের আয়োজনে ভূমিকা রাখেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক হাসানুজ্জামান, গণমাধ্যমকর্মী মাহাবুবুল হক দুদু, সেলিম সরদার, ওয়াহেদ আলী সিন্টু, ওহেদুজ্জামান টিপু, খালেদ মাহমুদ সুজন প্রমুখ।
বৈশাখী উৎসব আয়োজনের আহবায়ক ফজলুর রহমান সোহেল জানান, শহরের কোলাহল ও ব্যস্ততায় আমরা সবাই যখন বাঙালীর পুরনো ঐতিহ্য ভুলতে বসেছি তখন এলাকার সব বয়সী মানুষকে বাংলা সংস্কৃতি, গ্রামীন খেলাধুলা ও বাংলার গান মনে করিয়ে দিতেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান সিহাব বলেন, শিশু থেকে এলাকার নবীন-প্রবীন সব বয়সী নারী-পুরুষ এক স্থানে জড়ো হয়ে এই উৎসবে অংশগ্রহন করে দিনশেষে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এতেই আমরা স্বার্থক। এলাকাবাসীও আনন্দ ও খুশি হয়েছে এমন ব্যাতিক্রমী আয়োজনে।