সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

রাণীনগরে কাজী বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি ০৮ মে ২০২৬ ০৯:৪৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নওগাঁ প্রতিনিধি ০৮ মে ২০২৬ ০৯:৪৯ অপরাহ্ন
রাণীনগরে কাজী বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগরে বছরের পর বছর গোপনে হওয়া বাল্যবিয়ের কারণে বাড়ছে নানা জটিলতা। এতে করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা পরবর্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা, পাসপোর্ট করা, বিদেশ গমন করাসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অপরদিকে অধিকাংশ বাল্যবিয়ের সংসার ভেঙেও যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ বাল্যবিয়ের রেজিস্ট্রেশন কাজ করার শত শত অভিযোগ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনিকভাবে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কাজীদের বিরুদ্ধে।


বছরের পর বছর বাল্যবিয়ে সম্পাদন ও বিয়ে সংক্রান্ত অবৈধ কর্মকাণ্ড করে আসছে ২নং কাশিমপুর ইউনিয়নের বিয়ে রেজিস্ট্রার কাজী মো: বেলাল হোসাইন। অর্থের বিনিময়ে এই কাজী শুধু নিজ ইউনিয়নেই নয় পুরো উপজেলাসহ জেলা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বিয়ে সংক্রান্ত অবৈধ কর্মকাণ্ড করে আসছে। ফলে সমাজে বিয়ে সংক্রান্ত নানা জটিল সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর যথাযথভাবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েও আজ পর্যন্ত প্রভাবশালী কাজী মো: বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি মর্মে জানা গেছে।


সূত্রে জানা গেছে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চককুতুব গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে মোছা: মায়মুনা আক্তারের বাল্যবিয়ে সম্পাদন করেন কাজী মো: বেলাল হোসাইন। ০৫-০৩-২০২৪ তারিখে কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রদান করা মেয়ের জন্মনিবন্ধনে মেয়ের বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২৪-০৮-২০০৫ (নিবন্ধন নং ২০০৫৬৪১৮৫৫২০০৭১৬০)।


জন্ম নিবন্ধন অনুসারে বিয়ের সময় মোছা: মায়মুনা আক্তারের বয়স মাত্র ১৫বছর। বর্তমানে মায়মুনা আক্তারের সংসার ঠিক থাকলেও বিভিন্ন কাজে গিয়ে বিয়ের নিকাহনামা দাখিল করলে সরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে তার পরিবার। এছাড়া নিকাহনামায় অন্য হাতে লেখা ১৮বসর এবং ২৪-০৮-২০০৫ইং কাজীর অনিয়মকে আরো জোরালো করেছে। কাজীর দেওয়া এমন অবৈধ নিকাহনামা নিয়ে মেয়ের পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।


এছাড়া যাদের বয়স হয়নি। কিন্তু বিদেশ যাবে কিংবা অন্য কোন কাজের জন্য প্রয়োজন ভুয়া জন্ম নিবন্ধনে তারা কাজী মো: বেলাল হোসাইনের সঙ্গে ৩-৫হাজার টাকার বিনিময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একটি চক্রের কাছ থেকে বয়স বাড়িয়ে ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশ গমন করছে এবং অন্য কাজে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি এই ধরণের একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিষয়টি জানা গেছে। কাজী মো: বেলাল হোসাইনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সমায়িকভাবে সুবিধা নিতে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।


মেয়ে মায়মুনা আক্তারের বাবা খলিলুর রহমান জানান, ভালো ছেলের খোঁজ পাওয়ায় সেই সময়ে মেয়ের বয়স না হলেও কাজী মো: বেলাল হোসাইনের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে দিয়েছি। তখন কাজী মো: বেলাল হোসাইন বলেছিলো পরবর্তিতে কোন সমস্যা হবে না। যদি কোন সমস্যা হয় তখন সে তা সমাধান করে দিবে। কিন্তু বর্তমানে মেয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র করতে গিয়ে আর সম্ভব হচ্ছে না। বিয়ের এলোমেলো নিকাহনামায় মেয়ের বয়স ১৮বছর পূর্ণ না হওয়ার কারণে মেয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র হচ্ছে না। আমি এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।  


এই বিষয়ে কাজী মো: বেলাল হোসাইনের বক্তব্য নিতে মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান, ইতোমধ্যেই কাজী মো: বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে পাওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলমান রয়েছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে নতুন করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান এই কর্মকর্তা।