দক্ষতা অর্জনের লড়াইয়ে সফল পবিত্র, অনুপ্রাণিত হচ্ছেন গ্রামের তরুণরা
দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর সামাজিক পিছিয়ে পড়ার বাস্তবতা পেরিয়ে নতুন স্বপ্নের পথে হাঁটছেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের যুবক পবিত্র। একসময় পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত ছিল, নিয়মিত কাজও ছিল না। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার না মেনে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আজ তিনি আত্মনির্ভরশীল যুবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
পবিত্র একজন টিভেট (কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা) গ্র্যাজুয়েট। হেকস বাংলাদেশের সহায়তায় ছয় মাসের আইসিটি প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বর্তমানে তিনি মহাদেবপুর বাজারে সিসিটিভি, কম্পিউটার ও প্রিন্টার সার্ভিসিংয়ের কাজ করছেন। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এখন তিনি প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। তার এই সাফল্য এখন এলাকার বেকার ও পিছিয়ে থাকা তরুণদের কাছেও অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে পবা উপজেলার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারের সভাকক্ষে“সাফল্যের গল্পে অনুপ্রেরণা- টিভেট গ্র্যাজুয়েটদের সফলতা উদযাপনের মাধ্যমে কমিউনিটির যুবদের অনুপ্রাণিতকরণ”শীর্ষক সংলাপে নিজের জীবনের অনুভূতি তুলে ধরেন পবিত্র। তিনি বলেন, “একসময় মনে হতো অভাবের কারণে হয়তো আর সামনে এগোতে পারব না। কিন্তু প্রশিক্ষণ আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এখন আমি নিজের আয় দিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারছি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখতে শিখেছি।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন, শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রেজাউল আলম সরকার। যুবদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণ শেষে সততা ও ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করতে হবে। একদিনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা ঠিক নয়। দক্ষতা অর্জন কর, বাংলাদেশ তোমাকে খুঁজে নেবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী। তিনি বলেন,“দেশের উন্নয়নে অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি। যুবকরাই পারে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে। এনজিওগুলো শুধু ঋণ কার্যক্রম নয়, উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমেও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
অনুষ্ঠানে ১০ জন সফল যুব ও ৬০ জন আগ্রহী যুব নারী-পুরুষ অংশ নেন। সফল যুবকদের উৎসাহ দিতে তাদের মাঝে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন, হেকস বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ডোরা চৌধুরী, ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আকরামুল হক।
প্যানেল আলোচক ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিটিসির অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, মহিলা বিয়ষক অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক মোসা. সাহিদা আখতার, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নওগাঁ সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, ইউসেফ বাংলাদেশ রাজশাহীর রিজিওনাল ম্যানেজার মো. শাহিনুল ইসলাম।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, কারিতাস বাংলাদেশ রাজশাহীর ভিনসেন্ট চড়ে, পার্টনারশিপ ম্যানেজার এন্ড সিনিয়র প্রোগ্রাম এডভাইজার ভূপেশ রায়, হেকস বাংলাদেলের লাইভলিহুড, পার্টনারশিপ ম্যানেজার এন্ড সিনিয়র প্রোগ্রাম এডভাইজার সাইবুন নেছা, ইয়ুথ স্কিল ডেডেলপমেন্ট এন্ড এমপাওয়ার মেন্ট হাসিনা মিয়াজি, সিনিয়র পার্টনারশিপ কো- অর্ডিনেটর এএফএম রুকুনুল ইসলাম, টেকনিক্যাল অফিসার প্রসেনজিত দাস, ডাসকো ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম খান।