সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার দুজনের একজনকে থানা থেকে ‘জামিন’

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ মে ২০২৬ ০২:৪৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ মে ২০২৬ ০২:৪৮ অপরাহ্ন
যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার দুজনের একজনকে থানা থেকে ‘জামিন’

রাজশাহী নগরীতে চুরির অপবাদে এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার একজন আসামিকে থানা থেকেই ‘জামিন’ দেওয়া হয়েছে। অপর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


জামিন পাওয়া যুবকের নাম আলী হাসান মো. মুজাহিদ। তার এসএসসি পরীক্ষা চলছে। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে মামলায় নাম থাকলেও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তাই তাকে থেকে জামিন দেওয়া হয়েছে। 


এর আগে সোমবার (১১ মে) রাতে আরএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়। ওই রাতেই একজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। 


এর আগে রোববার (১০ মে) তুষার (১৮) নামে এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। ওই ঘটনায় তার বাবা নাজির আলী সোমবার (১১ মে) মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


মামলার আসামিরা হলেন. শামীম (৫৫), হৃদয় (২২), আশিক (২২), মুহিন (১৮) এবং আলী হাসান মো. মুজাহিদ (২২)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত আসামি দুজন হলেন নগরের বাজে কাজলা এলাকার বাসিন্দা মুহিন (১৮) এবং ধরমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী হাসান মো. মুজাহিদ। এছাড়া অন্য আসামি মুহিনকে মঙ্গলবার (১২ মে) আদালতে পাঠানো হলে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আলী হাসান মো. মুজাহিদের নাম এজাহারে থাকলেও তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে থানা থেকেই তাকে ‘জামিন’ দেওয়া হয়েছে। তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।


মুজাহিদকে ছাড়া প্রসঙ্গে উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘যে কোনো মামলার আসামিকেই থানা থেকে জামিন দিতে পারেন ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)। আইনে ওসিকে এই ক্ষমতা দেওয়া আছে। এটি পুলিশের এখতিয়ার।’


মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার (৯ মে) রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন তুষারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজ করেন। এ সময় তুষার বাড়ি নেই বলে জানান তাঁর বাবা নাজির আলী। পরে ‘তুষারকে পেলে সবকিছু বোঝানো হবে’ বলে হুমকি দেন অভিযুক্তরা। এমনকি কোনো ধরনের তদবির না করার কথাও বলে যান তাঁরা।


এর পরদিন সকালে হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে আগের দিন খোঁজার কারণ জানতে চান তুষার। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে। পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযানে নামে।