শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলার ঘটনায় ৯ জনের নাম দিয়ে এবং জামায়াতে ইসলামীর অজ্ঞাত ১০০-১৫০ সদস্যকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় শাহআলী থানায় রেশমি বেগম নামে মাজারের এক ভক্ত এ মামলা করেছেন।
এদিকে এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আরমান, রাসেল ও আজম।
ওসি বলেন, “হামলায় আহত রেশমি বেগম নামে একজন একটি মামলা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলছে।”
হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে তিনজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলেও তারা এজাহারভুক্ত আসামি কিনা তা নিশ্চিত করেননি তিনি। তবে যে নয়জনের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে রাসেল ও আজম নামে দুজন রয়েছে।
একই সঙ্গে তারা কোনো দলের সদস্য কিনা সেটাও বলতে পারেননি ওসি।
বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলা হয়। ওরশ চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
হামলার শিকার জিয়ারতকারী কয়েকজন বলছেন, হামলাকারীরা ‘জামায়াত শিবিরের’ লোক। তবে জামায়াতে ইসলামী সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
১৭ বছর ধরে ওই মাজারে নিয়ম জিয়ারত করা রেশমি বেগম নামে ওই ভক্তের করা মামলার এজাহারে নাম থাকা আসামিরা হলেন- মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), আজম (৪০), শেখ মো. রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) এবং কাজী পনির (৫০)।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে মাজার জিয়ারত ও মানতের সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে ঢুকে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।
তার অভিযোগ, ‘জিয়ারত ও মানতের কার্যক্রম’ চলাকালে অভিযুক্তরাসহ নাম না জানা ১০০-১৫০ জন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা ‘পূর্ব পরিকল্পিতভাবে’ হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার স্লোগান দিয়ে’ প্রধান গেট দিয়ে মাজারে প্রবেশ করে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, এ সময় ‘জিয়ারতকারী এবং মানতকারীদের’ উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে জখম করে এবং মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় থাকা লাল কাপড় টানা হেচড়া করে ছিড়ে ফেলে, মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটও ভাংচুর করে। যেটিকে ‘চরমভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’।
বাদী রেশমী মামলায় বলেন, ঘটনা দেখে আসামিদের বাধা দিতে গেলে তারা ‘ক্ষিপ্ত হয়ে’এলোপাথারিভাবে মারপিট করে জখম করে।
এসময় তার কাপড়চোপড় ‘টানা-হেচড়া করে’ যৌন নির্যাতনও করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন।
মারপিটের একপর্যায়ে নাম না জানা একজন মাজারের মানতের খিচুরি রান্না করার চুলা ও পাতিল ভাংচুর করে অনুমান ৩০ হাজার টাকা ক্ষতি করেছেন। একইসঙ্গে বাদীর কাছে থাকা নগদ ৬ হাজার টাকাসহ জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা লুট করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
রেশমী বেগম অভিযোগ করেন, হামলার একপর্যায়ে মাজারের উপস্থিত জিয়ারতকারী, মানতকারী এবং ভক্তরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে আসামিরা ‘ভয়ভীতি-হুমকি প্রদর্শন করে’ চলে যায়।
এদিকে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনাকে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া ‘সহিংসতার ধারাবাহিকতা’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
শনিবার এক বিবৃতিতে টিআইবি হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ
ছবি: সংগৃহীত
সোনার দেশ ডেস্ক
ঠাকুরগাঁওয়ে সাদা পোশাকে দায়িত্বরত এক পুলিশ কনস্টেবলকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, আসামিরা ‘আজকে পুলিশ মেরে দুপুরে ভাত খাব’ বলে তাঁর ওপর নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়েছে উল্লেখ করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য। এ ছাড়াও লক্ষাধিক টাকা চাঁদা দাবি ও জোরপূর্বক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
আজ শনিবার এ মামলায় অভিযুক্ত ৫ জনকেই গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও থানা–পুলিশ। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পুলিশ কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩ / ১৮৬ / ৩৪১ / ৩৩৩ / ৩৫৩ / ৩৪২ / ৩৩২ / ৩৬৫ / ৩৮৫ / ৫০৬ / ১১৪ / ৩৪ ধারায় সরকারি কাজে বাধা, অপহরণ, অবরুদ্ধ করে চাঁদা দাবি ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নম্বর-২৫) দায়ের করা হয়েছে।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে কোনো গভীর রহস্য বা আর্থিক লেনদেনের বিরোধ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আসামিদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সোহেল রানা (৩২), মো. বিপ্লব ইসলাম (২৭), মো. নাজমুল হোসেন ওরফে রাব্বি (২২), মো. সাকিব খান (২৬) ও মো. নাইম আহাম্মেদ (২৮)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার কনস্টেবল মো. আজিজুল ইসলাম সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তথ্য ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
তিনি শহরের গোয়ালপাড়া (পুরোনো ওয়ালটন সার্ভিস মোড়) এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার ও অটোরিকশা নিয়ে একদল যুবক তাঁর পথরোধ করে। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবকেরা তাঁকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারের ভেতর টেনেহিঁচড়ে তুলে নেয় এবং চড়-থাপ্পড় মেরে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে একটি দোকানে নিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
সাদা পোশাকে তথ্য সংগ্রহের কারণে আসামিরা তাঁকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এই থানায় থাকতে হলে আমাদের চাঁদা দিতে হবে।’ একপর্যায়ে জোরপূর্বক তিনটি ১০০ টাকা মূল্যমানের ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে ঘটনার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়, কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে এক আসামি অন্যদের হুকুম দিয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘এই বেটা পুলিশকে ধর। আজকে পুলিশ মেরে দুপুরে ভাত খাব।’ এরপর দুজন (আসামি) তাঁর গালে চড় থাপ্পড় দেন ও দোকানে থাকা শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে দুই পায়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। ভুক্তভোগী চিৎকার করলে আসামিরা তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
পরে ভুক্তভোগী ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা নেন। প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ ও আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের কারণে এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এজাহারনামীয় পাঁচ আসামির সবাইকে আমরা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাঁদের কড়া নিরাপত্তায় ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
এসআই হারুন অর রশিদ আরও বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা অর্থনৈতিক লেনদেনের কোনো বিষয় থাকতে পারে। আসামিরা কেন একজন পুলিশ সদস্যের ওপর এতটা চড়াও হলো, তা বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এ জন্য খুব দ্রুতই আদালতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।’
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘সরকারি পোশাক ছাড়া তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্যের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা মাঠে নামি এবং প্রধান পাঁচ আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করি।’
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন