সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ১৭ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৭ মে ২০২৬ ০৮:৩৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৭ মে ২০২৬ ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ১৭ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গত ১৭ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাথর আমদানিতে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু (শুল্কায়নের জন্য নির্ধারিত সরকারি মূল্য) টনপ্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ১৩ ডলার থেকে ১৫ ডলার নির্ধারণ করায় গত ১ মে থেকে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।


এ সংকট নিরসনে ১৪ ও ১৭ মে দুই দফা বৈঠক করেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। ফলে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বন্দরের প্রায় আট হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্দরে পাথরবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে নীরবতা।


সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সময় সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করত। তবে দীর্ঘদিন ধরে ফল আমদানি বন্ধ থাকায় ট্রাকের সংখ্যা কমে আসে। বর্তমানে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন মাত্র প্রায় ১০০টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে।


আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি ২ ডলার অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু পরিশোধ করে পাথর আমদানি করলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। কারণ আমদানিকৃত পাথরের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নিম্নমানের হওয়ায় তা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারযোগ্য থাকে না। ভারতীয় রপ্তানিকারকদের এমন সিদ্ধান্তে তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।


অচলাবস্থার কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরে পুরোপুরি স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। দ্রুত সমাধান না হলে তাদের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ-এর সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি জানান, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে শুল্কায়ন মূল্যের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে বন্দরের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নামবে।


গত বৃহস্পতিবার ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ ঘোষ স্বাক্ষরিত এক প্রেস নোটে জানানো হয়, গত ৯ মে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে টনপ্রতি অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ১৫ ডলার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এদিকে পানামা পোর্ট-এর ম্যানেজার মো. মাইনুল ইসলাম জানান, গত ১৪ মে মহদীপুর স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের সভায়ও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সর্বশেষ ১৭ মে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দর ও বাংলাদেশের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান না আসায় পাথর আমদানি বন্ধই রয়েছে। 


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনা মসজিদ সি এ্যান্ড এফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান গত ১০ বছর আগে দুই ডলার বৃদ্ধি করেছে ভারতীয় রপ্তানিকারক গ্রুপ, সেটা দুদেশের ব্যাবসায়ীদের  আলোচনা ফলপ্রসূ হলে হয়তো এর সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন।