শিশু জান্নাত হত্যাকারিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
দুর্গাপুরে (৪) বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাতের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
রোববার (১৭ মে) হাট কানপাড়া বাজারে প্রধান সড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন তারা। এসময় হাজার হাজার নারী পুরুষ এ বিক্ষোভে অংশ নেন। অনেকে আবার মাথায় কাফনের কাপড় পরেও এ বিক্ষোবে অংশ নেন। এসময় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় আটকা পড়ে শতশত পন্যবাহী গাড়ি ও পথচারি।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে আন্দোলনরত জনতা ভূয়া ভূয়া বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর পুলিশ ও জনতা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। এক পর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ করে মারমুখি হয়ে তেড়ে আসেন বিক্ষুদ্ধ জনতা। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে যুক্ত হয় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সসহ ডিবি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে নিখোঁজ হয় উপজেলার বাজুখলসী গ্রামের ফার্মেসি ব্যবসায়ী হাসিবুল হোসেন শান্তর মেয়ে হুমায়রা জান্নাত। পরে শিশুটিকে খোঁজে পাওয়া না গেলে তাকে উদ্ধারে রাতভর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশ, পুকুর এবং জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালান। ফলে এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর এক পর্যায় শনিবার (১৬ মে) সকাল ৮টার দিকে শিশুটির সন্ধান পেতে শিশুটির পরিবার থেকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
শনিবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে শিশুটির বাবার ফোনে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে শিশুটিকে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেলা প্রায় ২টার দিকে প্রতিবেশি রাজিবের বাড়ির পাশে একটি খেঁজুর গাছের নিচ থেকে হুমায়রা আক্তার জান্নাতের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। এনিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা কল্পনা। স্পষ্ট হয় অপহরণের বিষয়টি। এনিয়ে ফুঁসে উঠে এলাকাবাসী।
বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালেও তারা কোনো প্রকার ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন নিহতের পরিবার। এমনকি অপহরণ ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করতে পারায় দেখা দেয় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ। রবিবার (১৭ মে) এনিয়ে বেলা ২টা থেকে হাট কানপাড়া বাজারে শুরু হয় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন। পাশে এ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয় নিহত শিশু হুমায়রা জান্নাতের মরদেহ। এরির্পোট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিশু হুমায়রা জান্নাত হত্যা সন্দেহ ভাজন এক ব্যাক্তির বাড়িতে হামরা চালায় কিছু ইচ্ছুক জনতা।
শিশুটির বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত জানান, ’তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছিলো। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করেছিলো। বিষয়টি জানাজানি হলে তার মেয়েকে হত্যা করে বাড়ির পাশে একটি খেজুর গাছের নিচে ফেলে রেখে যায়। এবিষয়ে থানা পুলিশকে জানালে তারা কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি আমার মেয়ের লাশের পোস্টমর্টেমও করতে দেওয়া হয়নি। যতক্ষণ না আমার মেয়ের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হবে, ততক্ষণ এ বিক্ষোভ চলমান থাকবে।
দুর্গাপুর থানার (ওসি) তদন্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত আসামীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’