সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
জেলার ৯০টি হাটে চলবে বেচাকেনা

বগুড়ায় কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭

বগুড়া:প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৬ ০১:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া:প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৬ ০১:১০ অপরাহ্ন
বগুড়ায় কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কোরবানির গরু বিক্রি নিয়ে খামারিরা যেমন শঙ্কায় আছেন, তেমনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ক্রেতারাও। তবে ওষুধের দাম ও গো-খাদ্যের অতিরিক্ত দামের কারণে প্রস্তুতকৃত পশুর প্রত্যাশিত দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন খামারিরা। এদিকে কুরবানির পশুর দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে সংকটে পড়বেন মধ্যবিত্ত কুরবানিরদাতারাও। সবমিলে চলতি বছরের কোরবানির পশু প্রস্তুতকারী খামারি ও কোরবানি দিতে আগ্রহীরা ব্যক্তিরা কেউ স্বস্তিতে নেই। এদিকে বগুড়ায় কোরবানি পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুতকৃত পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।

জেলার ১২ উপজেলায় এবার কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৫৭টি পশু বেশি রয়েছে। এছাড়াও পশু কেনাবেচার জন্য এবার জেলার ৯০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২৯টি স্থায়ী এবং ৬১টি অস্থায়ী হাট থাকবে।

তাছাড়া হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৫৯টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম কাজ করবে। এসব টিম অসুস্থ পশু শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার ১২ উপজেলায় এবার কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৫৭টি পশু বেশি রয়েছে।

প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯০৪টি ষাঁড়, ৪১ হাজার ৩২৮টি বলদ, ৬৩ হাজার ৫৫২টি গাভী, ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি ছাগল, ৫৪ হাজার ২৯টি ভেড়া এবং ২ হাজার ১৫৫টি মহিষ। এ বছর জেলায় পশু পালনকারী খামারির সংখ্যাও বেড়েছে। এবার ৫১ হাজার ৭৬৪ জন খামারি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৬১৮ জন বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য বলছে, গত বছর জেলায় ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি পশু প্রস্তুত থাকলেও চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৯ হাজার ১০টি। সে সময় অতিরিক্ত পশু ছিল ৩৮ হাজার ৪৩২টি। তবে এবার অতিরিক্ত পশুর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সদর উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৭২ হাজার ৩৬৯। এর মধ্যে ষাড় ১৯ হাজার ২৪৫টি, বলদ ৪ হাজার ৩৪২টি, গাভী ৫ হাজার ২২৬টি, মহিষ ১৬৩, ছাগল ৩৯ হাজার ৩৭৩টি ভেড়া ৪ হাজার ২০। চাহিদা রয়েছে ৪৩ হাজার ৩৪৬টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ২৯ হাজার ২৩টি। গাবতলী উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬৭ হাজার ৮৪২। চাহিদা রয়েছে ৪০ হাজার ১৭২টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ২৭ হাজার ৬৭০টি। সারিয়াকান্দি উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬১ হাজার ৮৪০। চাহিদা রয়েছে ৪২ হাজার ১৭৪টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ১৯ হাজার ৬৬৬টি। সোনাতলা উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬০ হাজার ৭০০। চাহিদা রয়েছে ২৯ হাজার ৬৭৮টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ৩১ হাজার ২২টি। শিবগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬০ হাজার ৮৩০। চাহিদা রয়েছে ৪০ হাজার ২৪৪টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ১৭ হাজার ৫৮৬টি। কাহালু উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬৬ হাজার ১৭৬। চাহিদা রয়েছে ৩৫ হাজার ৫৬১টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ৩০ হাজার ৬১৫টি। দুপচাচিয়া উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬৩ হাজার ২৭১। চাহিদা রয়েছে ৩৪ হাজার ১৮১টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ২৯ হাজার ৮৮টি। আদমদিঘী উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৪৮ হাজার ৪৭। চাহিদা রয়েছে ২৫হাজার ১৬টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ২৩ হাজার ৩১টি। নন্দীগ্রাম উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৭৩৫। চাহিদা রয়েছে ২৮ হাজার ৮৪৩টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ১৫ হাজার ৮৯২টি। শাজাহানপুর উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৫৪ হাজার ৫৪৭। চাহিদা রয়েছে ৪১ হাজার ৯৪৬টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ১২ হাজার ৬০১টি।

এছাড়াও শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিয়ায কাযমীর রহমান জানান, এ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৭৬ হাজার ৭২০টি। এর মধ্যে ষাড় ২৪ হাজার ৪০০টি, বলদ ৭ হাজার ৬৩৮টি, গাভী ৫ হাজার ৪৪৯টি, ছাগল ৩৭ হাজার ৫০০টি। শেরপুর উপজেলা ২টি স্থায়ী ও ৪টি অস্থায়ী হাটেই মেডিকেল টিম থাকবে। তবে হাটগুলোতে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার কোরবানী পশু ক্রয় বিক্রয় হবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওই কর্মকর্তা।

ধুনট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেহেনা খাতুন জানান, ধুনট উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৬২ হাজার ২৪০টি। এ উপজেলায় কোরবানিযোগ্য ৬৬ হাজার ৩৪০টি পশু প্রস্তুত আছে, যা নিজ উপজেলার চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি।ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ৪ হাজার ১০০টি পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর হাটে পাঠানো সম্ভব হবে।

খামারিরা বলছেন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। এছাড়া কেনাবেচার ভোগান্তি এড়াতে খামার থেকে কোরবানির পশু পৌঁছে দেয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। এতে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি কেনা-বেচা বাড়ছে। তবে গো-খাদ্যের বাড়তি দামের কারণে তারা এসব পশুর প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। তারা বলছেন, প্রতি বছর গো-খাদ্য ভুষি, ধানের কুড়া, খৈল, খড়, ঘাসসহ গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে প্রতি গরুতে প্রস্তুত খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রায়হান জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে করে নিরাপদ কুরবানির পশু পাওয়া যায়। এছাড়াও খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাট বাজারে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছে। যাতে কোনো রোগাক্রান্ত গোবাদি পশু বেচাকেনা না হয়।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “চলতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে হাটে সব ধরনের পশুর সরবরাহ বাড়বে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পশু কেনাবেচা হবে। জেলার ৯০টি হাটে মেডিকেল টিম পশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিতে কাজ করবে।”

এদিকে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, প্রতিটি হাটে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে ৪ থেকে ৫ সদস্যের পুলিশ টিম দায়িত্ব পালন করবে।  মাঠে থাকবে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তে ব্যাংক কর্মকর্তারাও কাজ করবেন।