সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

দুই হাতে ভর দিয়ে জীবনযুদ্ধ—অবশেষে হুইলচেয়ারে স্বস্তি প্রতিবন্ধী বীরেন দাসের

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ মে ২০২৬ ০১:২২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ মে ২০২৬ ০১:২২ অপরাহ্ন
দুই হাতে ভর দিয়ে জীবনযুদ্ধ—অবশেষে হুইলচেয়ারে স্বস্তি প্রতিবন্ধী বীরেন দাসের

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা মাদ্রাসা পাড়ার শারীরিক প্রতিবন্ধী মুচি শ্রী বীরেন দাসের জীবন যেন এক নিরব সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। এক পা অকেজো হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে তিনি দুই হাতে ভর দিয়ে চলাচল করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। নওহাটা পুরাতন বাজারের ধান হাটেই তার কর্মস্থল-সেখানে বসেই সারাদিন জুতা সেলাই ও মেরামতের কাজ করে যা উপার্জন করেন, তা দিয়েই স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে কোনোরকমে দিনাতিপাত করেন। প্রতিদিনের এই কষ্টকর যাতায়াতই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কাঁকর-পাথরে ভরা পথ, ধুলোমাখা রাস্তা-সবকিছুই যেন তার জন্য বাড়তি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াত। তবুও থেমে থাকেননি বীরেন দাস; দুই হাতে ভর দিয়ে প্রতিদিনই পৌঁছে যেতেন তার কর্মস্থলে। এই কষ্ট কিছুটা লাঘবের আশায় তিনি একটি হুইলচেয়ারের জন্য আবেদন জানান, রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. মো. মোজাফফর হোসেন মুকুলের কাছে। বিষয়টি তিনি অবহিত করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে। পরে সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় সোমবার (১৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বীরেন দাসের হাতে একটি হুইলচেয়ার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হোসেন আলী এবং ড. মো. মোজাফফর হোসেন মুকুলসহ অন্যান্যরা।

হুইলচেয়ারে বসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বীরেন দাস। তিনি বলেন,“এতদিন দুই হাতে ভর দিয়ে চলতাম, খুব কষ্ট হতো। আজ এই হুইলচেয়ার পেয়ে মনে হচ্ছে নতুন করে বাঁচার শক্তি পেলাম। এখন কাজ করতে যাওয়া অনেক সহজ হবে।”

পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন বলেন,“সমাজের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। বীরেন দাসের মতো পরিশ্রমী মানুষদের সহায়তা করতে পারা আমাদের জন্য আনন্দের।”

রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. মো. মোজাফফর হোসেন মুকুল জানান, এই সহায়তা শুধু একটি হুইলচেয়ার নয়, বরং বীরেন দাসের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দীর্ঘদিনের কষ্টের পর স্বস্তির এই ছোট্ট উপহার তাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।