সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

ড. তসিকুল ইসলাম রাজা আর বেঁচে নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ মে ২০২৬ ১১:৩১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ মে ২০২৬ ১১:৩১ অপরাহ্ন
ড. তসিকুল ইসলাম রাজা আর বেঁচে নেই

রাজশাহী শাহমখদুম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, রাজশাহী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী লেখক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. তসিকুল  ইসলাম রাজা আর নেই (ইন্নলিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তিনি সোমবার (১৮ মে) রতি ৮ টার দিকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকি’‘সাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মুত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। অসুস্থ অবস্থায় তিনি ঢাকায় ছেলের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিকসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। ড. রাজা এক ছেলে ও এক মেয়ে, নাতি-নাতনি সহ অসংখ্য গুনাগ্রাহী রেখে গেছেন। 


স্বজনসূত্রে জানা গেছে, ড. রাজার মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন। তিনি ১৯ মে (মঙ্গলবার) রাতে ঢাকায় পৌঁছবের বলে জানা গেছে। সোমবার রাতে ড. রাজার মরগেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার  ড. রাজার লাশ রাজশাহীতে আনা হবে। এদিন বাদ আসর নগরীর মহিষবাথান গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।


তসিকুল ইসলাম রাজা মূলত একজন প্রতিবাদী কবি এবং নিরলস গবেষক। সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে অসাধারণ সংগঠক হিসেবে সারাদেশে সুপরিচিত। আধুনিক বাংলা কবিতা, ফোকলোর, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক ইতিহাস-ঐতিহ্য গবেষণায় তিনি একজন নিবেদিত প্রাণ মানুষ। তিনি নিরলস কলমসৈনিক। সমকালীন মুক্তবুদ্ধি চর্চার এক দুঃসাহসী অভিযাত্রী। তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ সংখ্যা ৩০টি এবং শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।


তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ, বাসর ফেলে যুদ্ধে আয় (কাব্য), নেই রক্ষা নেই (কাব্য), রবীন্দ্রোত্তর বাংলাকাব্যে গ্রামীণ জীবন, রবীন্দ্রনাথের লোকায়ত জীবন ও সংস্কৃতি ভাবনা, বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চার ইতিবৃত্ত ও অন্যন্যা প্রবন্ধ, মনীষী ও গুণিজন স্মরণে, কতপিয় স্মরণীয় মানুষের জীবন কথা, নির্বাচিত প্রবন্ধ, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা, আমার ফোকলোর ভাবনা, রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভাষা আন্দোলন, বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস, রাজশাহী প্রতিভা (১ম খণ্ড) কবি বন্দে আলী মিয়া স্মারকগ্রন্থ, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ, আবদুল হক চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ, মুহম্মদ মজিরউদ্দীন মিয়া স্মারকগ্রন্থ, শিকদার বাড়ির ইতিকথা, লড়াকু কবি ও মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুর রাহমান স্মারকগ্রন্থ, বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতি, জাতীয় নেতা শহিদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্মারকগ্রন্থ (দু’খণ্ড), সুবর্ণ রেখার আল্পনা: আবুল আহসান চৌধুরী সংবর্জন, নিরালোকে দিব্যরথ: মুহম্মদ এলতাসউদ্দিন সংবর্ধনা গ্রন্থ ইত্যাদি।


তিনি বিভিন্ন পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেন। উল্লেখযোগ্য: কবি বন্দে আলী মিয়া সাহিত্য পদক (১৯৯৫) জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সাতক্ষীরা নলতা কচি-কাঁচার মেলা সাহিত্য স্বর্ণ পদক (২০০৯), কবিকুঞ্জ পদক (২০১৩), ঋত্বিক ঘটক সম্মাননা পদক (২০১৮), অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় সম্মাননা পদক (২০১৯), রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পুরস্কার ও পদক (২০২২), বাংলা একাডেমির সা’দাত আলী আকন্দ সাহিত্য পুরস্কার (২০২১)।


তিনি বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জীবন সদস্য। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বালিয়াঘাটা গ্রামে ২৭ পৌষ ১৩৫৯, ১১ জানুয়ারি ১৯৫৩ সালে নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বি.এ অনার্স (১৯৭৬), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম.এ (১৯৭৭) এবং ভারত সরকারের আইসিসিআর বৃত্তিতে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় হতে ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাকাব্যে গ্রামীণ জীবন (১৯৮০-১৯৪৭)’ বিষয়ে প্রখ্যাত পণ্ডিত ও গবেষক তৎকালীন বাংলা বিভাগীয় প্রধান ও বিদ্যাসাগর অধ্যাপক ড. ক্ষেত্রগুপ্ত মহাশয়ের তত্ত্বাবধানে ১৯৯৪ সালে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন।


১৯৮৩ সালে রাজশাহী মহানগরীতে অবস্থিত শাহমখদুম ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান এবং ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পিতা: সাজ্জাদ আলী (একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত), মাতা জায়েদা খাতুন, স্ত্রী: হোসনে আরা বেগম ডেইজী, কন্যা ফাতিমাতুজ জোহরা সেঁওতি, পুত্র: সাফিন ইসলাম, জামাতা: আরিফুর রহমান জনি, পুত্রবধূ রওনক জাহান নিতু এবং নাতিদ্বয়: অদ্রিক ও অরিত্র।