কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নেই
দ্রুত ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হোক
চার মাস ধরে ওষুধের যোগান নেই রাজশাহীর অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকে। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। অনেকেই ক্লিনিকে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, আবার অনেককে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বাড়তি খরচে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। জেলার নয়টি উপজেলায় প্রায় ২৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে ওষুধসহ চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। কয়েক মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষেরা।
সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত অপর এক প্রতিবেদনে চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসেবা পরিস্থিতির আরো অবনতির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। শিবগঞ্জে ৫৬ কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় নয় মাস যাবত ওষুধ সরবরাহ বন্ধ আছে। ফলে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছেন, এখন্ োওষুধ আসার কোন সম্ভাবনা নেই, তবে চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিক তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। প্রায় ১৪ হাজারের বেশি চালু ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বিনামূল্যে ও সহজে প্রাথমিক চিকিৎসা, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরামর্শ পাচ্ছে। এটি মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে এবং টিকাদান কর্মসূচিতে অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিটি ক্লিনিক থেকে ২৭ থেকে ৩২ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ কোনো খরচ ছাড়াই সাধারণ জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসা পায়। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সেবা চালু রয়েছে। এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রসব-পরবর্তী সেবা প্রদানের ফলে মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
গ্রামীণ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও সামগ্রী সহজলভ্য করার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এটি বড় অবদান রাখছে।
যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক পরীক্ষাও এখানে করা হয়।
শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ঊচও) সফলভাবে বাস্তবায়নে এই ক্লিনিকগুলো কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। অপুষ্টি দূর করতে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ এবং শিশুদের বৃদ্ধির নিয়মিত পর্যবেক্ষণও করা হয়।
প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য ১টি করে ক্লিনিক স্থাপন করায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও খরচ দুটোই কমেছে। সেবা গ্রহণকারীদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু।
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার এই অভিনব ও কার্যকর মডেলটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কমিউনিটি ক্লিনিক মডেলটি বিশ্বব্যাপী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রসারের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত বা ‘গ্লোবাল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সন্দেহ নেই, কমিনিউটি ক্লিনিকগুলো গ্রামীণ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রেখে যাচ্ছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ কিমিউনিটি ক্লিনিককে নিজেদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করে। এক্ষেত্রে তাদের আস্থা ও বিশ্বাসের কোনো ঘাটতি নেই। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ সরবরাহ নিয়মিত রাখা খুবই প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে দ্রুত ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে হবে।