জমে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোরবানির পশুর হাট
পবিত্র ইদুল আজহা যতো ঘনিয়ে আসছে, ততো চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন পশুর হাটে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাটগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন পাইকার, খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা। কোরবানির ইদকে সামনে রেখে জেলার ছোট-বড় সব পশুর হাটে প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখেনি হাট কর্তৃপক্ষ।
আসন্ন ইদুল আজহা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় মোট ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে।
জেলার মোট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০২টি পশু। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় জেলায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫৮ হাজার ৮৪৮টি পশু, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহের সুযোগ তৈরি করছে।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৪৩ হাজার ৮২৪টি ষাঁড়, ৩৬ হাজার ৩৩১টি বলদ, ৩৬ হাজার ৮৫৫টি গাভী, ৫০৬টি মহিষ, ৮৪ হাজার ৮০১টি ছাগল, ১২ হাজার ৯২২টি ভেড়া এবং ৫টি অন্যান্য পশু। এতে বোঝা যায়, গরুর পাশাপাশি ছাগলের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৮৬ হাজার ৩৪৩টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ৪৬ হাজার, ফলে উদ্বৃত্ত ৪০ হাজার ৩৪৩টি। গোমস্তাপুরে ৫৭ হাজার ৮০৯টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ৪৫ হাজার ৪৫৩টি, উদ্বৃত্ত ১২ হাজার ৩৫৬টি। নাচোলে ১৩ হাজার ৫২৫টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ১২ হাজার ৫২০টি, উদ্বৃত্ত ১ হাজার ৫টি। ভোলাহাটে ১৬ হাজার ৭৭৬টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ১১ হাজার ৫০০টি, উদ্বৃত্ত ৫ হাজার ২৭৬টি। শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩৮ হাজার ৩১১টি পশু প্রস্তুত।
ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, গৃহস্থ ও খামারিরা স্বাস্থ্যকরভাবে পশু পালন করেন, তাই মাংসের গুণগত মান ভালো।
খামারি আমিনুর রহমান জানান, নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত ঘাস ও মানসম্মত খাবার দিয়ে গরু লালন করি। এজন্য আমাদের পশুর চাহিদা আগে থেকেই থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে ইতোমধ্যে বেচাকেনা শুরু হয়েছে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। হাটগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোসা. শারমিন আক্তার বলেন, আমরা সব অংশীজনকে নিয়ে কাজ করছি, যাতে সুস্থ ও নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বাজারে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে পশুর দাম কিছুটা বেশি। তবে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে এবারের কোরবানির বাজারে কোনো সংকট থাকবে না।