সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

চারঘাটে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, আতঙ্কে তীরবর্তী এলাকাবাসী

চারঘাট রাজশাহী প্রতিনিধি ২৪ মে ২০২৬ ০৮:৩২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চারঘাট রাজশাহী প্রতিনিধি ২৪ মে ২০২৬ ০৮:৩২ অপরাহ্ন
চারঘাটে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, আতঙ্কে তীরবর্তী এলাকাবাসী

পদ্মায় অসময়ে পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর পাড় ভেঙে ভিটে মাটি হারানো ভয়ে রাত কাটছে নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজারো বসতির। দীর্ঘদিন ধরে এমন ভাঙন নিয়ে চরম উৎকন্ঠা আর আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর, চন্দনশহর, রাওথার নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।


তবে এবার প্রথম ভাঙ্গন কবলিত অসহায়দের পাশে দাড়িয়ে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করে স্থায়ী ভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। তারই প্রচেষ্টায় রোববার (২৪ মে) বেলা ১২ টার দিকে ভাঙন কবলিত পিরোজপুর এলাকায় ৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নদীর তীরে বসবাসকারীরা।


জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরে চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর, চন্দনশহর ও রাওথা, গোপালপুর এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে নদী ভাঙন চলে আসছে। দিনের পর দিন বছরের পর বছর  ধরে এভাবে নদী ভাঙ্গনের ফলে নদীর তীরে বসবাসকারী অনেকেই হারিয়েছেন ভিটাবাড়ি জমি ও ফসলের মাঠ। কয়েক বছর ধরে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় কয়েকটি গ্রামের ঠিকানা এখন নদী গর্ভে।


নতুন ভাবে ভাঙন চলায় যেটুকু বাড়ী ঘর অবশিষ্ট রয়েছে, এখন সেগুলোও নদী গর্ভে চলে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন নদীর তীরে বসবাসকারীরা। এমন ভয়াবহ ভাঙনের খবর জানতে পেরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন এ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বলে জানান চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল। রোববার (২৪ মে) সকালে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের সময় বিকুল স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন কথা বলেন।


তিনি বলেন, সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এমপি সাহেব পানি উন্নিয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগ করে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় রোববার ৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আরো ব্যাগ লাগলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


নদীর তীরে বসবাসকারী ফজলুর রহমান,আনিছুর রহমান, সোলেমান আলী, ইসলাম আলী, সুমন আলীসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, বছরের পর বছর ধরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে অনেকেই আজ নি:শ্ব। অনেকেই হারিয়েছেন মাথা গোজার ঠায়। হারিয়েছে কয়েক হাজার একর ফসলী জমি। হঠাৎ করে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে কয়েক মাস ধরেই। অসময়ে ভাঙনে যে টুকু মাথা গোজার ঠায় অবশিষ্ট রয়েছে তাও হারানোর ভয়ে রাত কাটছে। 


পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী আবু রওশন মাসুদ বলেন, এখনই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে নদীর তীরে বসবাসকারীদের বাড়ী ঘর হয়ত থাকবে না। এই আসনের এমপি সাহেবের নির্দেশক্রমেই জিও বাগ ফেলে সাময়িক ভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।