রাজশাহীর পশুহাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, রশিদে টাকার অংক গোপন
কোরবানির ইদকে সামনে রেখে রাজশাহীর বিভিন্ন পশুহাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু অতিরিক্ত টাকা আদায়ই নয়, সেই অর্থের পরিমাণ রশিদে উল্লেখ না করে গোপন রাখার কৌশলও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত সিটিহাটে গরু কিনতে এসে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন নগরের বাসিন্দা গোলাম মোর্তজা। তিনি ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনে এক হাজার টাকা হাসিল দিয়েছেন। তবে দেওয়া রশিদে টাকার অংক উল্লেখ করা হয়নি। গোলাম মোর্তজা বলেন, ‘সব হাটেই অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। অন্য জায়গায় তা রশিদে লেখা থাকলেও সিটিহাটে টাকার পরিমাণই লেখা হচ্ছে না।’
সরেজমিনে সিটিহাট ঘুরে দেখা গেছে, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়টি আড়াল করতে অনেক ক্ষেত্রেই রশিদে টাকার অংক ফাঁকা রাখা হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন নির্ধারিত হারে গরু ও মহিষের জন্য ৭০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ৫০০ টাকা হাসিল নেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে গরুর ক্ষেত্রে এক হাজার এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাটের এক ইজারাদার শওকত আলী বলেন, নির্ধারিত হারের চেয়ে কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, হাটের অবকাঠামো উন্নয়নে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত দুই দিনে প্রায় ২০০ গাড়ি মাটি ফেলা হয়েছে, বাঁশ-খুঁটি বসানো হয়েছে। এসব খরচ তুলতেই কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে।’
তবে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে থাকা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একই চিত্র দেখা গেছে পবা উপজেলার নওহাটা পশুহাটেও। এখানে গরুর ক্ষেত্রে এক হাজার এবং ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা করে হাসিল নেওয়া হচ্ছে। অথচ নওহাটা পৌর কর্তৃপক্ষ গরুর জন্য ৫০০ এবং ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করেছে।
রশিদে টাকার অংক উল্লেখ না করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পাখিপ্রেমী হাসনাত রনি এমন একটি রশিদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘রশিদে সব তথ্য থাকবে, শুধু টাকার অংক থাকবে না- এই টাকার হিসাব কোথায় যায়?’
এ ঘটনায় সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নওহাটা পশুহাটের ইজারাদারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পবা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন।
তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়টি নজরে এসেছে। জরিমানা করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোনো হাটেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে দেওয়া হবে না।’ তবে হাটগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু কেনাবেচা হওয়ায় অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি জোরদার জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।