মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

দাম বেড়েছে মাংস কাটার গুড়ি, চাকু-ছুরির

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৫ মে ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৫ মে ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন
দাম বেড়েছে মাংস কাটার গুড়ি, চাকু-ছুরির

কোরবানির ইদকে সামনে রেখে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠতে শুরু করেছে গাছের গুড়ি, ছুরি, চাপাতি, বটি, কুড়ালসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামের। তবে, এবার আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় হতাশ হচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা বলছেন, গেল বছরের তুলনায় দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন থাকলেও অনেকেই কিনতে পারছেন না।


রাজশাহী নগরীর ভদ্রা, বিনোদপুর, শালবাগান ও নওদাপাড়া ঘুরে দেখা যায়- ছোট-বড় নানা ধরনের ছুরি, চাপাতি, বটি, দা ও কুড়াল বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিক্রি হচ্ছে গাছের গুড়ি। যাকে বলা হয় ‘খাইট্টা’। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত এসব সরঞ্জামের চাহিদা ইদ এলেই বেড়ে যায়। তবে এবারের বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।


বর্তমানে মাঝারি আকারের ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় চাপাতি ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা, বটি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং কুড়াল ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খাইট্টা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। গত বছর একই ধরনের পণ্য ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যেত বলে জানান ব্যবসায়ীরা। 


বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, ইদ সামনে রেখে অনেক আশা নিয়ে মাল তৈরি করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেইভাবে বিক্রি হচ্ছে না। মানুষ আসে, দাম শুনে চলে যায়। কিন্তু কেউ কিনছে না। গেল বছরে এ সময়ে বেশ ভালোই বিক্রি হয়েছিল। 


আরেক কারিগর সোহেল রানা বলেন, লোহার দাম, কয়লার দাম আর শ্রমিক খরচ বেড়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা আগের মতো কিনতে পারছেন না।


বিক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, গেল বছর ইদের আগের সপ্তাহে যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছিল, এবার তার অর্ধেকও হয়নি। বাজারে মানুষের হাতে টাকা কম।


ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে হতাশা। নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, কোরবানির জন্য একটা ভালো চাপাতি কিনতে এসেছি। কিন্তু দাম এত বেশি যে পছন্দ হলেও নেওয়া যাচ্ছে না।


আমিনুল ইসলাম বলেন, আগে ৫০০-৬০০ টাকায় ভালো ছুরি পাওয়া যেত। এখন সেই ছুরি কিনতে ১ হাজার টাকা লাগে। ইদে বাজেট শেষ করে এসব কেনা কঠিন হয়ে গেছে। সবকিছুর দাম বাড়ছে। কোরবানির পশু কেনার পর আবার এত দামে সরঞ্জাম কিনতে হচ্ছে। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য খুব কষ্ট হয়ে গেছে।